যুক্তরাজ্য সরকার শ্যাডো ফ্লিট নামে পরিচিত, বৈধ জাতীয় পতাকা ছাড়া চলাচলকারী তেলবাহক জাহাজে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য আইনি অনুমোদন খুঁজে পেয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোর দ্বারা আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া।
গত সপ্তাহে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে মারিনেরা তেলবাহক জাহাজকে আটক করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সূত্রে এই জাহাজটি ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও ইরানের জন্য তেল পরিবহন করছিল, যা আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
এ পর্যন্ত কোনো ব্রিটিশ সৈন্য জাহাজে চড়ে কোনো শ্যাডো ফ্লিট জাহাজকে আটক করেনি, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকার কীভাবে এই ধরনের জাহাজে হস্তক্ষেপ করা যায় তা নিয়ে বিশদ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ২০১৮ সালের স্যান্কশন ও মানি লন্ডারিং আইনকে ভিত্তি করে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার অনুমতি পাওয়া যাবে বলে মন্ত্রীরা বিশ্বাস করেন।
সরকারের অভ্যন্তরে এই ক্ষমতা ব্যবহারকে ‘কর্মসূচি তীব্রতর করা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং শীঘ্রই প্রথম সামরিক পদক্ষেপের সময়সীমা নির্ধারণের জন্য আলোচনা চলছে। তবে এখনো প্রথম হস্তক্ষেপের সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে পূর্ব দিকে রাশিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়া দুটি তেলবাহক জাহাজ, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল, তা নজরে এসেছে। এই জাহাজগুলোও শ্যাডো ফ্লিটের অংশ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ইউকে ইতিমধ্যে ৫০০টিরও বেশি শ্যাডো ফ্লিট জাহাজের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং দাবি করে যে এই জাহাজগুলো রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণসহ শত্রু কার্যক্রমের তহবিল সরবরাহে ব্যবহার হচ্ছে। মন্ত্রীরা জানান, যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের যৌথ পদক্ষেপের ফলে প্রায় ২০০টি জাহাজ সমুদ্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার বেশিরভাগই বৈধ পতাকা ছাড়া চলাচল করত।
জাহাজের পতাকা রেজিস্ট্রেশন একটি আন্তর্জাতিক নীতি, যার মাধ্যমে কোনো জাহাজকে নির্দিষ্ট দেশের অধীনে নিবন্ধন করা হয় এবং আন্তর্জাতিক জলে চলাচলের সময় আইনি সুরক্ষা পায়। শ্যাডো ফ্লিটের জাহাজগুলো এই রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কাজ করে, ফলে তারা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারে।
সরকারের নতুন আইনি পদ্ধতি ব্যবহার করে যে কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত, তবে বৈধ পতাকা ছাড়া চলমান জাহাজকে বাধা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা দাবি করে। এই প্রস্তাবের মধ্যে মারিনেরা জাহাজটিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সম্প্রতি মার্কিন কস্ট গার্ড দ্বারা থামানো হয়েছিল।
মারিনেরা, পূর্বে বেলা ১ নামে পরিচিত, ভেনেজুয়েলা-সংযুক্ত একটি তেলবাহক। এটি উত্তর আটলান্টিকের পথে চলার সময় মার্কিন কস্ট গার্ডের দ্বারা আটক করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
যুক্তরাজ্যের এই আইনি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর নজরে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোর আর্থিক প্রবাহে বাধা দেওয়া সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।
অন্যদিকে, শ্যাডো ফ্লিটের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়মের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করছেন। তারা জোর দেন যে জাহাজের পতাকা রেজিস্ট্রেশন বিষয়টি জটিল এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য কীভাবে এই আইনি কাঠামো ব্যবহার করবে এবং কোন জাহাজে প্রথম পদক্ষেপ নেবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে মন্ত্রীরা নিশ্চিত করেছেন যে শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধে কার্যক্রম বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই নীতি রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণসহ অন্যান্য শত্রু কার্যক্রমের অর্থায়ন বন্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



