ইন্টার এবং নাপোলির মধ্যে সিরি এ শীর্ষস্থানীয় ম্যাচে দুই দলই সমানভাবে লড়াই করে ২-২ সমতা বজায় রাখে। ইন্টার ৪৩ পয়েন্টে শীর্ষে অবস্থান করে, আর নাপোলি তৃতীয় স্থানে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মিলানের সঙ্গে পার্থক্য মাত্র তিন পয়েন্ট, ফলে শিরোপা লড়াই এখনো তীব্র।
ম্যাচের শুরুর মাত্র নয় মিনিটে ইন্টার প্রথম গোল করে। মারকাস থুরাম ডিফারেন্সে বল নিয়ে গিয়ে ফেডেরিকো ডিমারকোর কাছে পাস দেন, যিনি কোণার কাছাকাছি থেকে নিচু শট দিয়ে গোলের জাল ভেদ করে গলপোস্টের দূরবর্তী কোণে গুলি করেন। এই দ্রুত আক্রমণ ইন্টারকে প্রাথমিক সুবিধা দেয় এবং নাপোলি দীর্ঘ সময় নিজের অর্ধে আটকে থাকে।
ইন্টারের প্রাথমিক আধিপত্যের পরও নাপোলি তাড়াতাড়ি প্রতিক্রিয়া দেখায়। ২৬তম মিনিটে লিওনার্দো স্পিনাজোলার পাসে এলজিফ এলমাসের লো ক্রস নাপোলির স্কটল্যান্ডের মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটোমিনের কাছে পৌঁছায়। তিনি ম্যানুয়েল আকাঞ্জির চেয়ে আগে নিকটবর্তী পোস্টে পৌঁছে ইয়ান সামারের গলপোস্টের নিচে বলটি গুলিয়ে সমতা রক্ষা করেন। এই গোল নাপোলির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত দু’দলই সমান থাকে।
বিরতির পর ইন্টারের আক্রমণ পুনরায় তীব্র হয়, তবে নাপোলি কিছু সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়। রাসমুস হোজলুন্ডের দিকে দীর্ঘ ক্লিয়ারেন্সের পরে একটি শট হয়, যা সামান্যই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গিয়োয়ান্নি দি লোরেঞ্জো স্পিনাজোলার ক্রসের পরে হেডার মারেন, তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায়। মাঝখানে ইন্টারের হামলা বাড়তে থাকে, এবং হ্যামরিক মখিতারানের ওপর আমির রাহমানির ফাউল হওয়ায় পেনাল্টি প্রদান করা হয়।
পেনাল্টি নেওয়ার সময় নাপোলির কোচ অ্যান্টোনিও কন্টের রেফারির সিদ্ধান্তে রাগের প্রকাশ ঘটায়, ফলে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ইন্টারের হাকান কালহানোগলু পেনাল্টি শটটি উল্লম্বের দিকে আঘাত করে, ফলে বলটি উঁচু হয়ে যায় এবং গোলের পরিবর্তে উড্ডয়ন করে। এই মুহূর্তে ইন্টার আবার এক পয়েন্ট বাড়িয়ে ২-১ করে নেয়।
ইন্টারের এই সুবিধা সত্ত্বেও নাপোলি হাল ছাড়তে অস্বীকার করে। শেষের দিকে স্কট ম্যাকটোমিনে আবারও গোলের সুযোগ পান। তিনি আবারও প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছাড়িয়ে নিকটবর্তী পোস্টে বলটি গুলিয়ে সমতা পুনরুদ্ধার করেন। এই দ্বিতীয় গোল নাপোলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দলকে পয়েন্ট সংগ্রহে সক্ষম করে এবং শিরোপা লড়াইয়ে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
চূড়ান্ত স্কোর ২-২ হয়ে, ইন্টার ৪৩ পয়েন্টে শীর্ষে থাকে, আর নাপোলি ৩৯ পয়েন্টে তৃতীয় স্থানে থাকে। মিলান দ্বিতীয় স্থানে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে ইন্টারের পিছনে রয়েছে। দু’দলই শিরোপা জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে, তবে শিরোপা লড়াইয়ের তীব্রতা এখনো অব্যাহত।
ইন্টার-নাপোলি ম্যাচের পাশাপাশি ইউরোপীয় ফুটবলে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলও প্রকাশ পায়। বায়ার্ন মিউনিখ ভলফসবার্গের ওপর বিশাল পার্থক্যে জয়লাভ করে, ফলে তারা লিগে ১১ পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে উঠে। এই জয় বায়ার্নের শিরোপা শিকারের পথে দৃঢ়তা যোগায়।



