রবিবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ব্রাইটনকে ২-১ গোলে হারিয়ে এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে বাদ পড়ে। অলিম্পিক স্টেডিয়ামের ভিড়ের মধ্যে ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গেই সমর্থকরা তীব্র নিন্দা ও তালি দিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইউনাইটেডের একক গোলই শেষ হয়ে গেল, ফলে ক্লাবের এফএ কাপের যাত্রা শেষ হয়ে গেল।
ফ্লেচার, যিনি রুবেন আমোরিমের দায়িত্বহীনতার পর তত্ত্বাবধায়ক কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন, প্রকাশ্যে বললেন যে দলের খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে এবং এখন তারা ‘নাজুক’ অবস্থায় রয়েছে। তার মতে, এই মানসিক অবস্থা পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার দরকার।
রুবেন আমোরিমের পদত্যাগের পর ফ্লেচার ইউনাইটেডের আন্ডার‑১৮ কোচ থেকে তত্ত্বাবধায়ক হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজে একসময় আলেক্স ফারগুসনের অধীনে মিডফিল্ডার হিসেবে ক্লাবের স্বর্ণযুগে অংশগ্রহণ করেন, তবে এখন তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তার প্রথম কাজেই এফএ কাপের প্রথম রাউন্ডে পরাজয় মোকাবেলা করতে হয়েছে।
ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ইউনাইটেড ১৯৮১‑৮২ মৌসুমের পর থেকে প্রথম রাউন্ডে দুটো দেশীয় কাপেই বাদ পড়েনি। এছাড়া ২০১৪ সালের পর থেকে এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে প্রথমবার পরাজয় পেয়েছে ক্লাব। বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে সপ্তম স্থানে রয়েছে, যা ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী উচ্চমানের তুলনায় যথেষ্ট নিচে।
ক্লাবের উচ্চপদস্থরা এখন পর্যন্ত একটি অস্থায়ী কোচ নিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চলবে। এই সময়কালে তারা স্থায়ী প্রধান কোচের সন্ধান চালিয়ে যাবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে দলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়।
প্রাক্তন প্রধান কোচ ওলেগুনার সোলস্কজার এবং প্রাক্তন মিডফিল্ডার মাইকেল ক্যারিককে অস্থায়ী কোচের পদে বিবেচনা করা হচ্ছে। উভয় নামই ক্লাবের অভ্যন্তরে এবং বাহিরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, যদিও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।
ইউনাইটেডের সমর্থকরা ম্যাচের পর স্টেডিয়ামে জিম রাটক্লাইফ এবং গ্লেজার পরিবারের বিরুদ্ধে চিৎকার করে বিরোধ প্রকাশ করেছে। ভিড়ের মধ্যে ‘১৯৫৮ গ্রুপ’ নামে একটি সমিতি ফ্রেব্রুয়ারি ১ তারিখে ফালহামের ঘরে ম্যাচের সময় প্রদর্শনী করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
আসন্ন ম্যাচগুলোতে ইউনাইটেডকে ম্যানচেস্টার সিটি এবং আরসেনালের মতো শীর্ষ দলগুলোর মুখোমুখি হতে হবে, যা দলের মানসিক অবস্থা আরও কঠিন করে তুলতে পারে। ফালহামের সঙ্গে ফেব্রুয়ারি ১ তারিখে নির্ধারিত ম্যাচটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা সমর্থকদের জন্য একটি প্রকাশের মঞ্চ হতে পারে।
এই মৌসুমে ইউনাইটেড মোট ৪০টি ম্যাচ খেলবে, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বের সময়ের পর থেকে সর্বনিম্ন সংখ্যা। বর্তমানে তারা প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চার দলের থেকে তিন পয়েন্টের পার্থক্য বজায় রেখেছে, তবে শীর্ষে ফিরে যাওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।



