বিএফএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) সিলেটের ম্যাচে রঙপুর রাইডার্সের হরফনামা তাওহিদ হ্রিদয় ৯৭* রান করলেও দলটি ১৭৯ লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। ২৫ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যানটি রাইডার্সের জন্য প্রথমবার ওপেনার হিসেবে খেললেও, রায়শাহী ওয়ারিয়র্স পাঁচ ওভারের মধ্যে সাত উইকেট নিয়ে লক্ষ্য অতিক্রম করে, পাঁচ বল বাকি রেখে জয় নিশ্চিত করে।
হ্রিদয়ের এই পারফরম্যান্সের আগে তিনি ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২২টি ইনিংসে ৪৯৩ রান সংগ্রহ করে গড়ে ১১৬.৫৪ স্ট্রাইক রেট বজায় রাখেন। তবে এই মৌসুমে তিনি বিএফএলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি; গরম-ঠাণ্ডা পারফরম্যান্সের ধারায় তিনি কখনো শীর্ষে, কখনো নিচে নেমে গেছেন।
সিলেটের ম্যাচে হ্রিদয় ১০২৪তম ওভারে রাইডার্সের তৃতীয় উইকেটের পরে খুশদিল শাহের সঙ্গে ১০৫ রানের চতুর্থ উইকেট পার্টনার গড়ে তোলেন। উভয় খেলোয়াড় মাত্র ৫১ বলের মধ্যে এই অংশীদারিত্ব সম্পন্ন করেন, যা রাইডার্সকে ৭২/৩ থেকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। হ্রিদয় প্রথম ২০ বলেই ৩৬ রান করেন, তবে পরবর্তী ৩৫ ডেলিভারিতে কোনো সীমা না দিয়ে মাঝের অংশে গতি কমে যায়। শেষের ২৩ বলের মধ্যে তিনি আবার আক্রমণাত্মক হয়ে ৫৪ রান যোগ করেন, ফলে তার মোট স্কোর ৯৭* হয়ে থাকে।
যদিও হ্রিদয়ের আউটস্ট্যান্ডিং ৯৭ রান রাইডার্সকে একটি প্রতিযোগিতামূলক টোটাল দিতে সক্ষম হয়, তবু রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের মুহাম্মদ ওয়াসিম ও নাজমুল হোসেন শান্তোর অর্ধশতক পারফরম্যান্স দলকে লক্ষ্য অতিক্রমে সাহায্য করে। উভয় খেলোয়াড়ই অর্ধশতক পার করে রাইডার্সের স্থাপিত লক্ষ্যকে সহজে ছাড়িয়ে যায়।
হ্রিদয়ের এই পারফরম্যান্স তার মৌসুমের সামগ্রিক রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই সিজনে তিনি সাতটি ম্যাচে তিনবার এক অঙ্কে আউট হন, অন্য দুইটি ইনিংসে যথাক্রমে ২৯ ও ১৭ রান করেন, এবং একমাত্র পাঁচের বেশি স্কোর ৫৩ রান (৩৯ বলে) ছিল, যা রাইডার্সকে তবু জয় থেকে বঞ্চিত করে।
বিএফএল মৌসুমে হ্রিদয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভালো ফর্মে থাকলেও দলীয় সমন্বয় এবং শেষের মুহূর্তের চাপ তাকে প্রায়শই পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেয়। তার ওপেনার হিসেবে প্রথম অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও, রাইডার্সের সামগ্রিক কৌশল এবং পার্টনারশিপের ঘাটতি ফলস্বরূপ লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা দেখা দেয়।
রঙপুর রাইডার্সের কোচিং স্টাফের মতে, হ্রিদয়ের আক্রমণাত্মক শটের নির্বাচন এবং দ্রুত স্কোরিং ক্ষমতা দলকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখে, তবে মাঝের ওভারগুলোতে রেট বজায় রাখা এবং পার্টনারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। ভবিষ্যতে হ্রিদয় যদি এই দিকগুলোতে উন্নতি করেন, তবে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারে।
এই ম্যাচের পর রঙপুর রাইডার্সের পরবর্তী প্রতিপক্ষ এবং ম্যাচের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে দলটি শীঘ্রই পরবর্তী রাউন্ডে ফিরে আসবে। হ্রিদয়ের জন্য এই পরাজয় একটি শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে তিনি নিজের গেম প্ল্যানকে আরও সুসংহত করে দলকে জয়ের দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করবেন।
বিএফএল মৌসুমে হ্রিদয়ের পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, ব্যক্তিগত সাফল্য এবং দলীয় জয় সবসময় সমন্বিত নয়। তার ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা, পার্টনারশিপ এবং শেষের ওভারগুলিতে চাপ সামলানোর ক্ষমতা মূল চাবিকাঠি হবে।



