রবিবার লন্ডন, প্যারিস এবং ইস্তাম্বুলে ইরানের গৃহযুদ্ধের বিরোধে সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বড় আকারের সমাবেশের আয়োজন করে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপের পর দেশীয় প্রতিবাদকারীরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমর্থনের আহ্বান জানায়। লন্ডনে প্রথমে ইরানি দূতাবাসের সামনে সমাবেশ শুরু হয়, পরে ডাউনিং স্ট্রিটের সমীপে স্থানান্তরিত হয়ে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছায়।
লন্ডনে উপস্থিত ৩৮ বছর বয়সী ইরানি নাগরিক আফসি, যিনি শেষ নাম প্রকাশ না করে, তার বক্তব্যে পরিবর্তন ও শাসনবদলের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি সাত বছর ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন এবং বৃহস্পতিবার থেকে সরকারী ইন্টারনেট বন্ধের ফলে ইরানে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা পেয়েছেন। একই সময়ে আরেকজন অংশগ্রহণকারী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে, তবে নতুন আশা জাগিয়ে তুলতে সরকার উল্টে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত দেন।
প্যারিসে দুই হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী ১৯৭৯ সালের পূর্বের ইরানি পতাকার সঙ্গে সমাবেশে অংশ নেন এবং “আতঙ্কিত ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে” স্লোগান তোলেন। পুলিশ ইরানি দূতাবাসের কাছে সমাবেশকে সীমাবদ্ধ করে, ফলে অংশগ্রহণকারীরা দূতাবাসের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। সমাবেশে কিছু কণ্ঠস্বর “মুল্লাদের দূতাবাস বন্ধ করুন, সন্ত্রাসী কারখানা” বলে চিৎকার করে। ২০ বছর বয়সী ইরানি ছাত্র আর্যা, যিনি প্যারিসে বসবাস করেন, ইরানে জনগণের প্রতিবাদকে সমর্থন করে এবং ইরানীয়দের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী রেজা পাহলাভিকে, যিনি শেষ শাহের পুত্র, তার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন, যাকে বিরোধী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য মুখ হিসেবে দেখা হয়।
ইরানে প্রতিবাদ মূলত জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হলেও, এখন তা ১৯৭৯ সালের ধর্মীয় বিপ্লবের পর থেকে চালু থাকা ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। ইরানি সরকার প্রতিবাদকারীদের “বিদেশি সমর্থিত দাঙ্গা” বলে অভিযুক্ত করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পেছনে থাকার অভিযোগ তুলেছে।
ইস্তাম্বুলে বৃষ্টির মধ্যে সমাবেশের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও, অংশগ্রহণকারীরা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সমর্থন জানাতে একত্রিত হয়। পুলিশ ইরানি কনসুলেটের চারপাশে নিরাপত্তা গড়ে দেয় এবং সমাবেশকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখে। যদিও বৃষ্টির কারণে অংশগ্রহণের সংখ্যা কমে যায়, তবু সমাবেশের মূল বার্তা – ইরানের জনগণের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আহ্বান – স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
এই আন্তর্জাতিক সমাবেশগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক মনোযোগকে কেন্দ্রীভূত করেছে এবং বিভিন্ন দেশের সরকারকে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। লন্ডন, প্যারিস ও ইস্তাম্বুলের নিরাপত্তা বাহিনী সমাবেশের শান্তিপূর্ণ পরিচালনা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তবে প্রতিবাদকারীরা সরকারের নীতি পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চায়। ভবিষ্যতে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নির্ধারণের জন্য পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে আরও বিশদ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।



