বহুমুখী ভৌগোলিক ওয়ানডি সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারত দল ভোরের সূর্যাস্তের পরে ভাদোদরায় নিউ জিল্যান্ডকে পরাজিত করে ১-০ অগ্রগতি অর্জন করেছে। লক্ষ্য ছিল ৩১০ রানের কাছাকাছি টার্গেট, যা ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শেষের ছয় বোলের মধ্যে সম্পন্ন করেছে।
নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিং প্রথমে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে, শুরুর ওভারে চারটি উইকেট হারিয়ে তারা দ্রুত ৪০ রানের নিচে নেমে আসে। ড্যারিল মিচেল ৩টি চৌকো ও ৫টি ছক্কা দিয়ে সর্বোচ্চ ৮৪ রান সংগ্রহ করে দলের পুঁজি বাড়ায়। ডেভন কনওয়ে ১টি চৌকো ও ৬টি ছক্কা দিয়ে ৫৬ রান যোগ করে, আর হেনরি নিকোলস ৮টি চৌকো দিয়ে ৬২ রান তৈরি করে।
ভারতের শিকড়ে ভিরাট কোহলির উপস্থিতি ছিল, যিনি শুরুর শটগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ১টি চৌকো ও ৮টি ছক্কা দিয়ে ৯১ রান পর্যন্ত পৌঁছান। শেষের দুই রানে তিনি অতিরিক্ত দুই রান যোগ করে মোট ৯৩ রান করেন, তবে ৯১ রানে তার আউট হয়ে যায়। কোহলির এই ইনিংস তার ধারাবাহিক পাঁচটি ওয়ানডিতে অর্ধশতক পার করার পরম্পরাকে অব্যাহত রাখে, যার মধ্যে দু’টি সেঞ্চুরি অন্তর্ভুক্ত।
কোহলির ৯৩ রানের পর দলটি দ্রুত দুইটি অতিরিক্ত উইকেট হারায়, স্কোর ৬৭ রানে আটকে যায়। তবে লোকেশ রাহুলের স্থিতিশীলতা দলকে পুনরুজ্জীবিত করে; তিনি শেষের ছয় বোলের মধ্যে জয়ী রানের দায়িত্ব নেন এবং লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শুবমান গিল পুনরায় দলে ফিরে ২টি চৌকো ও ৩টি ছক্কা দিয়ে ৫৬ রান করেন, আর শ্রীযাস আইয়ার ১টি চৌকো ও ৪টি ছক্কা দিয়ে ৪৯ রান যোগ করে।
নিউ জিল্যান্ডের ফিল্ডিংও ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হার্শিত রানা ও ওয়াশিংটন সুন্দারের ক্যাচ মিস করা এবং এলোমেলো ফিল্ডিং দলকে অতিরিক্ত রানের সুযোগ দেয়। এই ত্রুটিগুলো শেষ পর্যন্ত দলের চাপ বাড়িয়ে দেয়।
ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা এবং রাহুলের শেষের শটের ফলে ভারত ৬ বোল বাকি রেখে লক্ষ্য অর্জন করে। ফলে দলটি প্রথম ওয়ানডিতে জয়ী হয়ে সিরিজে অগ্রগতি করে।
কোহলির পারফরম্যান্সে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক যুক্ত হয়েছে; তিনি ৬২৪ ইনিংসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮,০০০ রানের সীমা অতিক্রম করে সাচিন টেন্ডুলকারের ৬৪৪ ইনিংসের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে দ্রুততম রেকর্ডধারী হন। এই অর্জন তাকে ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন স্থান এনে দেয়।
সিরিজের বাকি দুই ম্যাচের জন্য উভয় দলই প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারত দল এই জয়কে আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি করে পরবর্তী ম্যাচে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্য রাখবে, আর নিউ জিল্যান্ড তাদের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং উন্নত করে সিরিজ সমতা ফিরিয়ে আনতে চায়।



