ভারতীয় ব্যাটিং দিগন্তের শীর্ষে থাকা ভিরাট কোহলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮,০০০ রানের দ্রুততম মাইলফলকে পৌঁছেছেন। তিনি নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচে এই রেকর্ডটি গড়ে তোলেন, যা দেশের ভক্তদের জন্য গর্বের মুহূর্ত।
মাইলফলকটি ছুঁতে কোহলির দরকার ছিল মাত্র ২৫ রান। প্রথম ওডিআইয়ে তিনি লেগ‑স্পিনার আদিত্য আশোকের ওপর চারটি রান করে চাহিদা পূরণ করেন এবং ২৮,০০০ রানের দোরগোড়া অতিক্রম করেন। এই পারফরম্যান্সে তিনি ৯১ বলের ইনিংস গড়ে ৯৩ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে আটটি চতুর্থা ও একটি ছয় ছিল, এবং মিড‑অফে ক্যাচে আউট হন।
কোহলির এই সাফল্যকে তুলনা করলে দেখা যায়, তিনি ৬২৪ ইনিংসে ২৮,০০০ রানে পৌঁছেছেন, যেখানে সাচিন তেন্ডুলকারকে ৬৪৪ ইনিংস এবং কুমার সাঙ্গাকারাকে ৬৬৬ ইনিংস লেগে ছিল। ফলে কোহলি তেন্ডুলকারের রেকর্ডকে ২০ ইনিংসের পার্থক্যে অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম নাম হয়ে ওঠেন।
এছাড়া কোহলি শ্রীলঙ্কার গ্রেট সাঙ্গাকারাকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হন। সাঙ্গাকারার ২৮,০১৬ রান ৬৬৬ ইনিংসে (২০০০‑২০১৫) এবং তেন্ডুলকারের ৩৪,৩৫৭ রান ৭৮২ ইনিংসে (১৯৮৯‑২০১৩) তুলনা করলে কোহলির বর্তমান মোট ২৮,০৬৮ রান স্পষ্টতই উল্লেখযোগ্য।
ভাদোদারায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোহলি প্রথমে ৪৪ রান করে পঞ্চাশের কাছাকাছি পৌঁছান, তবে শেষ পর্যন্ত ৯৩ রানে আউট হন। তার ইনিংসে ৮টি চতুর্থা ও ১টি ছয় ছিল, যা তার আক্রমণাত্মক শৈলীর পরিচয় দেয়। এই পারফরম্যান্সে তিনি ওডিআইতে ধারাবাহিক পঞ্চাশের রেকর্ডে পঞ্চম এবং লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সপ্তম ধারাবাহিক পঞ্চাশের ইনিংস গড়ে তোলেন।
কোহলির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখন ২৮,০৬৮ রান পর্যন্ত বিস্তৃত। ৩৭ বছর বয়সে তিনি মূলত ওডিআই ফরম্যাটে সীমাবদ্ধ হয়ে খেলছেন, তবে তার উপস্থিতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিবেচিত।
কোহলির সাম্প্রতিক রিটার্নের পেছনে একটি চমকপ্রদ গল্প রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে তিনি প্রথম দুই ম্যাচে শূন্য রান করে দলের থেকে বাদ পড়েছিলেন। তৃতীয় ম্যাচে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বিত ৭৪ রান করে দলকে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা থেকে তার ব্যাটিং ফর্ম পুনরায় জ্বলে ওঠে।
নভেম্বর‑ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে কোহলি ধারাবাহিকভাবে সেঞ্চুরি করেন। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি যথাক্রমে ১৩৫ ও ১০২ রান করেন, এবং তৃতীয় ম্যাচে অপ্রতিদ্বন্দ্বিত ৬৫ রান দিয়ে শেষ করেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনরায় শীর্ষে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
দেড় দশক পর কোহলি ঘরোয়া পঞ্চাশ ওভারের প্রতিযোগিতায় ফিরে আসেন এবং দিল্লি দলের হয়ে দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১৩১ ও ৭৭ রান করেন। এই পারফরম্যান্স তার দীর্ঘায়ু এবং অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে, যা তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম স্থায়ী নায়ক করে তুলেছে।
ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কোহলি নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওডিআইতে আবার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন, যা তার বর্তমান ফর্মের প্রমাণ। তার এই সাফল্য দলকে আত্মবিশ্বাস প্রদান করে এবং ভবিষ্যৎ সিরিজে আরও বড় লক্ষ্য অর্জনের ভিত্তি স্থাপন করে।



