রবিবার সকাল প্রায় ৭ টায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি বিয়েবাড়িতে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনায় নবদম্পতি ও তাদের পরিবারসহ অন্তত আটজনের প্রাণ ত্যাগ করেছে এবং আরও বারোজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। স্থানীয় সময়ে সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে এবং দেয়ালের বড় অংশ উড়ে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও আত্মীয়স্বজনদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে, ফলে অনেকেই মৃত্যুর শিকারে পরিণত হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নবদম্পতি ও তাদের নিকট পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দুইজন প্রতিবেশীও মৃত্যুবরণ করেছে। আহতদের মধ্যে বিয়ের অতিথি, কর্মী ও আশেপাশের বাসিন্দা অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয় প্রশাসক সাহেবজাদা ইউসুফ জানান, একই দিন ভোরে সম্ভাব্য বিস্ফোরণ সম্পর্কে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সতর্কতা সত্ত্বেও ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর দ্রুত জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে ওই এলাকার প্রধান সড়কগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাস লাইনের লিকেজের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ঘরের ভেতরে গ্যাস জমা হয়ে বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। এই অনুমান অনুসারে, গ্যাসের সঞ্চয় ঘটলে হঠাৎ চাপ বৃদ্ধি পেয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
বিস্ফোরণের ফলে বিয়েবাড়ির আশেপাশের কমপক্ষে তিনটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর ছাদ ও দেয়াল ভেঙে পড়ে, ফলে বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে এবং মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। তিনি পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব অর্পণ করেন।
পুলিশ ইতিমধ্যে একটি FIR দায়ের করে এবং ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অধীনে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম এবং নিরাপত্তা মানদণ্ডের পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় হলে মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ধরণের দুর্ঘটনা রোধে ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহ ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের কথা সরকার বিবেচনা করছে। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলমান এবং মৃতদের পরিবারকে সরকারী সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।



