বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) আজ তার সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ব্যাংকারদের বৈঠকে সকল ব্যাংককে জুলাই চার্টারের সংবিধানিক বিধান সংক্রান্ত রেফারেন্ডামে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালানোর আদেশ জানায়। রেফারেন্ডামটি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একসাথে অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটারদের ‘হ্যাঁ/না’ প্রশ্নের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হবে।
বৈঠকটি বিবি গভর্নর আহসান এইচ. ম্যানসুরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) থেকে চেয়ারম্যান মশরুর আরেফিন, ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ডিভিশনের সেক্রেটারি নাজমা মোবারেক, পাশাপাশি বিবির ডেপুটি গভর্নর, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও অন্যান্য পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নন‑পারফরমিং লোন কমানো, বিবির ডলার ক্রয় এবং রেফারেন্ডামের প্রস্তুতি সহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়। রেফারেন্ডামটি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সংবিধানের কিছু ধারা সংশোধনের জন্য সরল ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের ব্যবস্থা থাকবে।
চিফ অ্যাডভাইজারের অফিস থেকে প্রাপ্ত একটি চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি শাখায় দুইটি ব্যানার ঝুলিয়ে রেফারেন্ডামে অংশগ্রহণ ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদুপরি, রেফারেন্ডামের জনসচেতনতা বাড়াতে এনজিওগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবিবি চেয়ারম্যান মশরুর আরেফিন জানান, এবিবি ও তার সদস্য ব্যাংকগুলো রেফারেন্ডামের জটিলতা সহজে বোঝাতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাবে এবং প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “সাধারণ মানুষকে রেফারেন্ডামের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব।”
বিবি গত সপ্তাহে একই ধরনের একটি চিঠি জারি করে ব্যাংকগুলোকে ব্যানার স্থাপনের নির্দেশ দেয়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ও সরকারি ব্যাংক শাখায় ব্যানার ঝুলিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার শুরু করেছে।
বিবির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেন যে, ব্যাংকগুলো চিঠিতে উল্লেখিত সব নির্দেশনা মেনে চলবে এবং রেফারেন্ডামের ব্যাপারে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন চালানো ব্যাংকের স্বতন্ত্রতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলতে পারে। রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের সংবিধানিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে; তাই এই প্রচারাভিযান রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে রেফারেন্ডাম ফলাফল, ভোটার অংশগ্রহণের হার এবং ব্যাংকগুলোর ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।



