আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গত সপ্তাহে জুনাইদ আহমেদ পলকের আইনজীবীর দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে শোনার তারিখ পুনরায় নির্ধারণের আদেশ দিয়েছে। পলকের আইনজীবী জানিয়েছেন, তার ক্লায়েন্টকে কারাগারে ল্যাপটপ নিয়ে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া এবং আইনি পরামর্শের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের শোনার সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ায় চিফ প্রসিকিউটর উজমা তাজুল ইসলাম বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন।
শুনানির নতুন তারিখ বৃহস্পতিবার নির্ধারিত হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল‑১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল আদেশ জারি করে। প্যানেলটি শোনার পুনঃনির্ধারণের আবেদন গ্রহণ করে এবং নতুন তারিখ নির্ধারণের নির্দেশ দেয়।
আইনজীবী আগামী শুক্রবার কারাগারে গিয়ে ক্লায়েন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি এবং ১৮ জানুয়ারি শোনার তারিখ নির্ধারণের অনুরোধ করেন। তবে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে বিরোধিতা করে বলেন, আইনজীবীরা যদি ইচ্ছা করেন তবে আজই ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় গিয়ে আসামির সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাইব্যুনাল আজই কাজ শেষ করে শোনার সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারে।
শুনানির এক পর্যায়ে উজমা তাজুল ইসলাম আসামিপক্ষের বারবার সময় চাওয়ার প্রবণতা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষ বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে চায় এবং আশা করে যে নির্বাচনের পর বিচার-টিচার বন্ধ হয়ে যাবে। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ইলেকশনের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। তাজুল ইসলাম উত্তর দেন, সব কথা আমাদের কানে পৌঁছে, তবে উভয় পক্ষকে রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
বিচারিক প্যানেল উল্লেখ করেছে যে, জুলাই‑আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা উসকানির অভিযোগে এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে জয় এবং পলকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এই মামলায় উভয় পক্ষই আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি রাখছে।
আইসিটি-র শোনার সময়সূচি পুনঃনির্ধারণের ফলে মামলার অগ্রগতি ধীর হয়ে গেছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মতো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উজমা তাজুল ইসলাম এবং বিচারপতি মর্তূজা মজুমদার উভয়ই আদালতের কার্যকরী পরিচালনা এবং সময়মতো শোনার সম্পন্ন করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এই প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষকে রাজনৈতিক আলোচনায় জড়িয়ে না পড়তে এবং কেবলমাত্র আইনি বিষয়ের উপর মনোযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই নির্দেশনা ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্যের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা রোধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় উভয় পক্ষই প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং মামলার মূল বিষয়গুলো—ল্যাপটপ প্রবেশের অনুমতি, প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন, এবং গণঅভ্যুত্থানকালে ইন্টারনেট বন্ধের আইনি দায়িত্ব—উপরে ফোকাস করবে। আইসিটি-র এই পদক্ষেপ মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালত কীভাবে শোনার সময়সূচি মেনে চলবে এবং উভয় পক্ষের দাবিগুলি কীভাবে মূল্যায়ন করবে তা নজরে থাকবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এই মামলায় কেন্দ্রীভূত থাকবে।



