রাব-১৩ দল শনি রাত (১০ জানুয়ারি) গভীর রাতে কুড়িগ্রাম জেলার পাটেশ্বরী ইউনিয়নের উত্তর কুমারপুর সুখানদিঘীর পাড়ার একটি বসতঘরে অভিযান চালায়। গৃহে গাঁজা সহ প্রায় আট কেজি মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় এবং ৪১ বছর বয়সী আব্দুল গফুর মিয়া গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানটি রাব-১৩ এর নিয়মিত গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। রাব-১৩ সদর কোম্পানি, রংপুরের একটি দল স্থানীয় পুলিশ সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং সন্দেহভাজনকে আটক করে।
আবদ্ধ গাঁজার পরিমাণ আট কেজি, যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাদক প্রবাহে সহায়তা করতে পারত। জব্দকৃত সামগ্রী রাবের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আবদ্ধ ব্যক্তি আব্দুল গফুর মিয়া, নাগেশ্বরী উপজেলার রাঙালীরবস এলাকায় বসবাসকারী, মৃত মুনছুর আলীর পুত্র। তার পরিচয় এবং পূর্বের কোনো অপরাধের রেকর্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
রাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুমার গোস্বামী গ্রেফতারের পর আইনগত পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি সংশ্লিষ্ট ধারায় রেজিস্টার করা হবে এবং জব্দকৃত গাঁজা ও অন্যান্য সামগ্রী স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের পর অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আসামি এখন রাব-১৩ এর হেফাজতে রয়েছে এবং শীঘ্রই আদালতে উপস্থিত হতে হবে। আদালত তার জবাবদিহিতা নির্ধারণের জন্য প্রাথমিক শোনানির তারিখ নির্ধারণ করবে, যেখানে রাব-১৩ এর গোয়েন্দা দল সংগ্রহ করা প্রমাণ উপস্থাপন করবে।
রাব-১৩ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং চলমান গোয়েন্দা তত্ত্বাবধান অব্যাহত রাখবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান চালিয়ে মাদক প্রবাহ রোধে কাজ করবে।
কুড়িগ্রাম জেলা সাম্প্রতিক সময়ে মাদক সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা বাড়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে, তাই রাব-১৩ এবং স্থানীয় পুলিশ সমন্বয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের সমন্বিত অভিযান মাদক ব্যবসায়ীর নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে সহায়তা করবে।
অভিযানটি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হয়েছে, যা মাদকদ্রব্যের সরবরাহ শৃঙ্খলকে ভেঙে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাব-১৩ এর তৎপরতা এবং তথ্য সংগ্রহের দক্ষতা এই সফল গ্রেফতারের মূল কারণ।
জনসাধারণকে মাদকদ্রব্যের বিপদ সম্পর্কে সচেতন করতে রাব-১৩ ধারাবাহিকভাবে তথ্য প্রচার এবং সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালাবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সকল সংস্থা একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



