সোমবার সন্ধ্যায় ভদোদরায় অনুষ্ঠিত একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারত ৩০১ লক্ষ্য রানের পিছনে ছয় বল বাকি রেখে সফলতা অর্জন করে, চার উইকেটের পার্থক্যে নিউজিল্যান্ডকে পরাজিত করে। ভৌগোলিকভাবে গুজরাটের এই স্টেডিয়ামে দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হয় ভারতীয় দলের জয় দিয়ে।
ভারতের শীর্ষ ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি ৯৩ রান সংগ্রহ করেন, যা তার ৭৭তম ওডিআই অর্ধশতক। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ২৮,০৬৮ রানের সঙ্গে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার হয়ে ওঠেন, শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা (২৮,০১৬) কে অতিক্রম করে।
কোহলির অবদান ছাড়া ভারতীয় ব্যাটিং লাইন‑আপের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওপেনার শুবমান গিল ৫৬ রান তৈরি করেন এবং কোহলির সঙ্গে ১১৮ রানের দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। শ্রীয়াস ইয়ার ৪৯ রান যোগ করেন, যা দলের মোট স্কোরে বড় ভূমিকা রাখে।
দলীয় দায়িত্ব ভাগাভাগি করার দৃষ্টিকোণ থেকে হারশিত রানা ২৯ রান এবং উইকেটকিপার‑বাটার কে.এল. রাহুল অক্ষত ২৯ রান করেন, যার মধ্যে জয়ী ছয়টি শটও অন্তর্ভুক্ত। রাহুলের শেষ শটটি ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে, ফলে ভারত ছয় বল বাকি রেখে লক্ষ্য পূরণ করে।
নিউজিল্যান্ডের দ্রুত গতি প্রদর্শনকারী কাইল জেমিসন ৪ উইকেটের সঙ্গে ৪১ রান দিচ্ছেন, যা তার দলের জন্য একমাত্র উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স। তবে তার এই সাফল্য সত্ত্বেও কোহলির ৯৩ রান এবং দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা তাকে লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেয়।
কোহলি ম্যাচের পর ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান এবং তিনি নিজের ক্যারিয়ারকে স্বপ্নের মতো বর্ণনা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ফর্মে তিনি কোনো মাইলস্টোনের দিকে নজর দেন না, কেবল দলের জয়কে সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে রাখেন।
এই ম্যাচের পর কোহলি একমাত্র ওডিআই ফরম্যাটে খেলতে থাকবেন, কারণ তিনি এবং সহকর্মী রোহিত শর্মা টি২০ ও টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। রোহিত শর্মা ২৬ রান করে দ্রুত শুরু করেন, তবে জেমিসনের গতি তাকে দ্রুত আউট করে দেয়।
স্টেডিয়ামের ভিড় কোহলির ফিরে আসা দেখে উল্লাসে গর্জন করে, যখন তিনি গিলের সঙ্গে মিলিত হয়ে আক্রমণ চালিয়ে যান। গিল, যিনি সাম্প্রতিক আঘাত থেকে সেরে ফিরে এসেছেন এবং টি২০ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে না থাকায় কিছুটা অবহেলিত ছিলেন, ধীরে ধীরে গতি বাড়িয়ে ১৬তম ওডিআই অর্ধশতক অর্জন করেন।
গিলের আউট হওয়ার কারণ ছিল নবীন লেগ‑স্পিনার আদিত্য আশোকের দক্ষতা, যিনি তাকে মিড‑অফে ক্যাচে আউট করেন। গিলের ধীর সূচনা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি দলের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
কোহলির শেষ আউট হওয়া হয় জেমিসনের ক্যাচে, যা মিড‑অফে নেওয়া হয়। কোহলি স্টেডিয়ামের দর্শকদের সমর্থনে ফিরে আসার সময় একটি উল্লাসময় তালি পান, যা তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ যাত্রার প্রতি সম্মানসূচক।
এই জয় দিয়ে ভারত তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ অগ্রগতি অর্জন করে, পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সিরিজের বাকি দুইটি ম্যাচের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে দলটি এখনো শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত।
ম্যাচের পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ দেখায়, ভারতীয় ব্যাটিং লাইন‑আপের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং কোহলির অভিজ্ঞতা দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। নিউজিল্যান্ডের দ্রুত গতি ও জেমিসনের বোলিং সত্ত্বেও ভারত সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করে, যা ভবিষ্যৎ সিরিজের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।



