পাবনা জেল থেকে আটক করা আওয়ামী লীগ সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও গায়ক প্রলয় চাকী গত রবিবার রাত ৯টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হামলা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন।
মৃত্যুর সময় প্রলয় চাকী ডায়াবেটিসসহ একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছিলেন। পরিবার দাবি করে যে, যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে এবং কারাগারে অবহেলায় তার মৃত্যু ঘটেছে।
পাবনা কারাগারের জেল সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. ওমর ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রলয় চাকী গত শুক্রবার সকালে স্ট্রোকের শিকার হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাবনা ও পরে রাজশাহীতে স্থানান্তর করা হয়।
ফারুকের মতে, রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি সত্ত্বেও তাকে সিসিইউতে না রেখে সাধারণ প্রিজনার সেলে রাখা হয়। সেলটি চলাচল নিষিদ্ধ হলেও, তাকে কাজ করানোর অভিযোগ পরিবার থেকে এসেছে, যা রোগের অবনতি ত্বরান্বিত করেছে বলে তারা দাবি করে।
প্রলয় চাকীর পুত্র উল্লেখ করেন, তার বাবা হৃদরোগের ঝুঁকিতে ছিলেন, তবু জরুরি সেবা না দিয়ে তাকে সেলেই রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, সেল থেকে বের হওয়া বা বিশ্রাম নেওয়া কঠিন ছিল, ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।
প্রলয় চাকীকে প্রথমে ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে পাবনা শহরের পাথরতলা এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হামলা মামলায় অভিযুক্ত করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলাটি বর্তমানে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে; প্রলয় চাকীর মৃত্যুর পর আদালতে তার মৃত্যুকারণ ও কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রমাণ-প্রসঙ্গ ও আইনি দিক থেকে স্পষ্টতা প্রদান করতে হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কারাগার ব্যবস্থাপনা থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে তদন্তের আওতায় থাকা বিষয়গুলো দ্রুত প্রকাশের দাবি পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তুলেছে।
এই ঘটনার পর, কারাগার ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জেলভিত্তিক রোগীর তৎক্ষণাৎ সিসিইউতে স্থানান্তর ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রলয় চাকীর মৃত্যু দেশের কারাগার ব্যবস্থার স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্ট্রোকের পর প্রলয় চাকীকে প্রথমে পাবনা জেল মেডিকেল ইউনিটে ভর্তি করা হয়, যেখানে প্রাথমিক স্নায়ু-রক্ত সঞ্চালন পরীক্ষা করা হয়। তবে স্নায়ু-চিকিৎসা ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি না থাকায়, তাকে দ্রুত রাজশাহীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের মুখে প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার পরও জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়নি। তারা দাবি করে, রোগীর অবস্থা নিয়ে জেল কর্তৃপক্ষের



