যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট পুনরায় শেয়ার করেন, যেখানে কিউবার ভবিষ্যৎ শীর্ষ নেতা হিসেবে মার্কো রুবিওকে উল্লেখ করা হয়েছে। রুবিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং তার পিতামাতা কিউবীয় অভিবাসী।
এই পুনঃপ্রকাশের মূল পোস্টটি জানুয়ারি ৮ তারিখে টুইটার ব্যবহারকারী ক্লিফ স্মিথের এক বার্তা, যেখানে তিনি রুবিওকে কিউবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে একটি হাস্যকর ইমোজি যুক্ত করেন। পোস্টে স্পষ্টভাবে রুবিওকে কিউবার শীর্ষে দেখানো হয়েছে।
ক্লিফ স্মিথের টুইটার প্রোফাইলে তিনি নিজেকে “কনজারভেটিভ ক্যালিফোর্নিয়ান” বলে বর্ণনা করেন এবং তার অনুসারীর সংখ্যা পাঁচশোয়ের কম। তার প্রোফাইলের তথ্য থেকে বোঝা যায়, তিনি রাজনৈতিক আলোচনায় সক্রিয় হলেও বৃহৎ জনসাধারণের মধ্যে পরিচিত নয়।
ট্রাম্পের পুনঃপ্রকাশে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য রেখে তার অনুমোদন প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি রুবিওকে কিউবার নেতা হিসেবে স্বাগত জানানোর ইঙ্গিত দেন। তার মন্তব্যে কোনো অতিরিক্ত বিশ্লেষণ বা ব্যাখ্যা না দিয়ে সরাসরি সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে।
এই পোস্টটি প্রকাশের এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় একটি রাতারাতি অপারেশন চালায়, যেখানে দেশের স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপারেশনের ফলে ভেনেজুয়েলীয় ও কিউবীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হয়।
ভেনেজুয়েলায় ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়, এবং কিউবা সরকারও এই ঘটনাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে। তবে কিউবার শীর্ষে রুবিওকে নেতা হিসেবে উল্লেখ করা ট্রাম্পের পোস্টের প্রতি সরকারী কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্রুনো রড্রিগেজ পরে টুইটারে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি কিউবার অবস্থানকে ন্যায়সঙ্গত ও সঠিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
রড্রিগেজের মন্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “অপ্রতিরোধ্য অপরাধী হেজেমন” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা কেবল কিউবা নয়, পুরো গ্লোবাল নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করে। তিনি আরও বলেন, কিউবার দিক থেকে ন্যায় ও সঠিকতা সর্বদা রক্ষা করা হবে।
এই ধরনের পারস্পরিক সমালোচনা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতি নিয়ে। রুবিওকে কিউবার নেতা হিসেবে উল্লেখ করা ট্রাম্পের পোস্ট কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন এক মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মার্কো রুবিও, যিনি কিউবীয় অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গড়ে উঠেছে এবং বর্তমানে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। তার পটভূমি এবং কিউবায় তার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষকরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করছেন।
কিউবা সরকার যদিও রুবিওকে কিউবার শীর্ষে দেখার কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি, তবু ট্রাম্পের পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে কিউবীয় নীতি নির্ধারকরা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এই ধরনের সামাজিক মিডিয়া পোস্টগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন তা উচ্চপদস্থ নেতাদের দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত হয়। কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এখনো অনিশ্চিত, তবে উভয় পক্ষের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের পুনঃপ্রকাশে রুবিওকে কিউবার পরবর্তী নেতা হিসেবে উল্লেখ করা, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে মিলিয়ে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দেয়। কিউবা সরকার এখনো সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরবর্তী কূটনৈতিক বিকাশের দিকে নজর রাখছে।



