ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, কিউবাকে চুক্তি না করলে ভেনেজুয়েলীয় তেল ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ হবে বলে সতর্কবার্তা জানিয়েছেন। তিনি এই মন্তব্যটি ১১ জানুয়ারি রবিবার তার নিজস্ব সামাজিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পেছনে সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলা-কিউবা যৌথ সামরিক অভিযান ও তার ফলাফল রয়েছে।
ট্রাম্পের পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “কিউবায় আর তেল বা টাকা যাবে না – শূন্য!” এই শব্দগুলো তার ট্রুথ সোশ্যাল পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয় এবং তৎক্ষণাৎ শেয়ার হয়। পোস্টের টেক্সটে তিনি কিউবাকে দ্রুত কোনো চুক্তি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন, যাতে আর্থিক ও জ্বালানি প্রবাহে বাধা না আসে।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের বার্তায় তিনি কিউবাকে “অনির্দিষ্ট পরিণতির” মুখোমুখি হতে না বলার জন্য চুক্তি করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেরি হওয়ার আগেই সমঝোতা করা উচিত, নতুবা তেল ও অর্থের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এই ধরনের হুমকি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের কিউবার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়।
এক সপ্তাহ আগে ভেনেজুয়েলা এবং কিউবান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত একটি আকস্মিক সামরিক অভিযান চালানো হয়, যার ফলে ভেনেজুয়েলা নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঐ অভিযানে উভয় দেশের নিরাপত্তা কর্মীরা নিহত হন, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ঘটনার পরই ট্রাম্পের সতর্কবার্তা প্রকাশিত হয়।
কিউবার সরকার থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কিউবার দায়িত্বশীলরা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হুমকির প্রতি কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া গঠন করছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কিউবার সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে তিনি একটি পূর্ববর্তী পোস্ট পুনরায় শেয়ার করছিলেন, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিওকে ভবিষ্যতে কিউবার কমিউনিস্ট শাসকের সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করতেন। পুনরায় শেয়ার করার পর তিনি “আমার কাছে ভালো লাগছে!” মন্তব্য যোগ করেন, যা তার কিউবার প্রতি কঠোর অবস্থানকে আরও জোরদার করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সতর্কতা কিউবার অর্থনৈতিক সংকটকে বাড়িয়ে তুলতে পারে, কারণ তেল ও আর্থিক সহায়তা কিউবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয় উৎস। তেল সরবরাহ বন্ধ হলে কিউবার বিদ্যুৎ ঘাটতি ও জ্বালানি সংকট তীব্র হতে পারে, যা জনসাধারণের অসন্তোষ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের প্রকাশ্য হুমকি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি, রাজনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। যদি কিউবা চুক্তি না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবিত হতে পারে, যা কিউবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সীমাবদ্ধ করবে। অন্যদিকে, কিউবার শাসক দল এই চাপের মুখে অভ্যন্তরীণ সমর্থন জোরদার করার চেষ্টা করতে পারে, যা আঞ্চলিক রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা কিউবার জন্য আর্থিক ও জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে, এবং ভেনেজুয়েলা-কিউবা সামরিক সংঘাতের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপকে জটিল করেছে। কিউবার সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপে কীভাবে সামঞ্জস্য করবে, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



