বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন রবিবার বিকেলে দাসপাড়া নাসারী মাঠে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় দোয়া মাহফিলে ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে বলে সতর্কবার্তা দেন। অনুষ্ঠানটি চীনিশপুর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়াডে, বীরশ্রেষ্ঠ শিবিরের অংশ হিসেবে, প্রয়াত চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাতের জন্য আয়োজন করা হয়।
এই দোয়া মাহফিলে উপস্থিতদের উদ্দেশ্য ছিল খালেদা জিয়ার স্মরণে প্রার্থনা করা এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতা, পার্টির কর্মী ও সমর্থকরা একত্রিত হয়ে ধর্মীয় গীত গেয়ে, প্রার্থনা পাঠ করেন। খোকন এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের সময় তিনি উল্লেখ করেন, “ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে” এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানান। তিনি যোগ করেন, “যারা শিরক করে এবং ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে”।
খোকনের এই মন্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে সতর্ক করা। তিনি আরও বলেন, “যারা বলেন ধানের শীষকে দেখেছেন নৌকাকে দেখেছেন লাঙ্গলকে দেখেছেন এবার আমাদেরকেও দেখেন”। এই উক্তি ধর্মীয় প্রতীককে রাজনৈতিক মঞ্চে আনা নিয়ে তার বিরোধিতা স্পষ্ট করে।
বিএনপির এই ধরনের রেটোরিকের পেছনে পার্টির দীর্ঘমেয়াদী কৌশল রয়েছে, যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে সমর্থক সংগ্রহ এবং বিরোধী দলকে দুর্বল করা লক্ষ্য। খোকনের মন্তব্যকে পার্টির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
অন্যদিকে, সরকার ও আওয়ামী লীগ এই ধরনের অভিযোগকে রাজনৈতিক রঙে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি একাধিক মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছেন, ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক টুল হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তার দলের প্রতিনিধিরা পূর্বে ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিএনপি ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার সম্ভাবনা বাড়ছে। পার্টি নেতারা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ব্যবহার করে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করতে পারেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ধর্মকে পুঁজি করার অভিযোগের মাধ্যমে খোকন এবং তার দলীয় সহকর্মীরা বিরোধী দলকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে চাচ্ছেন। এই রকম রেটোরিক নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে ভোটারদের মনোভাব গঠন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দাসপাড়া নাসারী মাঠে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপি ধর্মীয় সমাবেশকে রাজনৈতিক মঞ্চে রূপান্তরিত করার এক উদাহরণ উপস্থাপন করেছে। খোকনের সতর্কবার্তা পার্টির ভক্তদের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিরোধী দলকে সমালোচনা করার একটি কৌশল হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে এই ধরনের ধর্ম-রাজনীতি সংমিশ্রণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, বিশেষ করে যখন জাতীয় স্তরে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা উচ্চ। পার্টিগুলি ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক লিভারেজ হিসেবে ব্যবহার করলে সামাজিক সংহতি ও ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
সর্বশেষে, দোয়া মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রয়াত নেতা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাতের প্রার্থনা, তবে খোকনের বক্তব্যের মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিতে নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং আগামী সময়ে ধর্ম-রাজনীতি সংযোগের ওপর নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



