সিলেটের গ্রীষ্মময় সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৪১ রানের পার্থক্যে ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে বিজয় নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি রবিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং দু’দলই চারটি পয়েন্টে সমান অবস্থানে রয়েছে।
নোয়াখালীয়ের শুরুর আক্রমণকে শক্তিশালী করে তুলেছিল পিতা‑পুত্রের অনন্য সংযোগ। হসান ইসাখিল এবং তার পিতা মোহাম্মদ নাবি ১০১ রানের উন্মুক্ত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যেখানে ইসাখিল ৫৩ রন এবং নাবি ১৭ রন যোগ করেন। এই অংশীদারিত্বের সঙ্গে সুম্য সরকার ২৫ ball-এ ৪৮ রন গড়ে তোলার মাধ্যমে দলকে দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেন।
মোহাম্মদ নাবি, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, ৬০ ball-এ ৯২ রন সংগ্রহ করেন। তার আক্রমণাত্মক শটের মধ্যে পাঁচটি ছয় এবং সাতটি চার অন্তর্ভুক্ত, যা নোয়াখালীকে ১৮৪ রনে সাত উইকেটের সঙ্গে মোট স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে। দলটি প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরবর্তীতে তাদের জয়ের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা ক্যাপিটালসের বলারদের জন্য শর্ত কঠিন হয়ে ওঠে। ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন চার ওভারে ২৪ রনেই দুইটি উইকেট নেন, আর মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন তিন ওভারে ২৩ রনে দুইটি উইকেট নিয়ে ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তবে অধিকাংশ ফ্রন্টলাইন বোলারদের জন্য স্কোর নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।
ঢাকার লক্ষ্য পূরণে যাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ৪.২ ওভারে মাত্র ১৯ রনে চারটি উইকেট হারিয়ে তারা রাহমানুল্লাহ গুরবাজ, সাইফ হাসান এবং নাসির হোসেনকে হারায়। এই প্রাথমিক পতন দলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিথুন ৩১ ball-এ ৩৩ রন সংগ্রহ করে কিছুটা শ্বাস নিতে সাহায্য করেন, তবে শামিম হোসেনের ১৬ ball-এ ২৯ রনও দলের সাময়িক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। সাইফুদ্দিন ব্যাটিংয়ে ২০ ball-এ ৩৪ রন যোগ করলেও তা পরাজয়ের ফাঁক কমাতে যথেষ্ট না হয়।
নোয়াখালীয়ের বোলিং ইউনিটও সমানভাবে কার্যকর ছিল। হাসান মাহমুদ, মেহেদি হাসান রানা এবং ইহসানুল্লাহ প্রত্যেকেই দুইটি উইকেট নেন, আর নাবি অফ-স্পিনার হিসেবে দুইটি উইকেটের সঙ্গে পারফরম্যান্স সম্পন্ন করেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ঢাকা ক্যাপিটালসকে লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেয়।
এই জয় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় জয় এবং ধারাবাহিক দুইটি জয় হিসেবে রেকর্ড হয়। দলটি শুরুর ছয় ম্যাচে পরাজিত হওয়ার পর এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা ক্যাপিটালসও দুইটি জয় অর্জন করেছে, তবে নেট রান রেটের পার্থক্যের কারণে তারা নোয়াখালীয়ের তুলনায় পঞ্চম স্থানে রয়ে গেছে। উভয় দলই চারটি পয়েন্টে সমান, তবে রেটের পার্থক্য টেবিলে অবস্থান নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে।
বিএলপি টুর্নামেন্টের বর্তমান পর্যায়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জয় দলকে টেবিলে মধ্যম স্তরে স্থাপন করেছে, যেখানে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য প্রতিটি দলই তীব্র প্রতিযোগিতা করবে।
পরবর্তী রাউন্ডে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মুখোমুখি হবে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ, যা টেবিলের শীর্ষে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করবে। একই সময়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের জন্যও পরবর্তী ম্যাচে রেজিলিয়েন্স দেখিয়ে পয়েন্ট বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।



