বেঙ্গল প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় রাউন্ডে রংপুর রাইডার্স দুই পরপর হারে টেবিলে চাপের মুখে। নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে পরাজয়ের পর দলটি এখন তিনটি ম্যাচ বাকি থাকা লিগ পর্যায়ে অগ্রসর হতে চায়। ক্যাপ্টেন নুরুল হাসান সোহান দলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সকল খেলোয়াড়কে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সঙ্গে প্রথম পরাজয় রাইডার্সের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং উভয় ক্ষেত্রেই ত্রুটিপূর্ণ পারফরম্যান্সের ফলস্বরূপ ঘটেছিল। এরপর রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে ম্যাচে একই রকম সমস্যার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়, যার ফলে রাইডার্সের জয়-পরাজয়ের রেকর্ডে দুইটি পরাজয় যুক্ত হয়েছে। এই দু’ম্যাচের পর দলটি পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে আটকে আছে, যদিও শুরুর দিকে শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে দলটি প্রত্যাশা করেছিল।
ক্যাপ্টেন সোহান বলছেন, “দলে অনেক বড় নাম আছে, তবে জয়ের জন্য প্রত্যেকেরই নিজের দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়ে কাজ করতে হবে।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেছেন, “গত দুই ম্যাচে আমরা খুব বাজেভাবে হেরেছি, তাই এখন থেকে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং সব ক্ষেত্রেই সমন্বিতভাবে খেলতে হবে।” তার এই মন্তব্য দলীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
টুর্নামেন্টের শুরুর আগে রাইডার্স সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে সোহান এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে যুক্ত করেছিল। উভয় খেলোয়াড়ই দেশের ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং দলকে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব প্রদান করার উদ্দেশ্যে এই চুক্তি করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখায় যে, শুধুমাত্র বড় নামের উপস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জয় নিশ্চিত করে না; সমগ্র দলের সমন্বয়ই মূল চাবিকাঠি।
সপ্তম ম্যাচ পর্যন্ত রাইডার্স সাতটি ম্যাচে চারটি জয় পেয়েছে, ফলে পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। যদিও জয়-পরাজয়ের অনুপাত মাঝারি, তবে ধারাবাহিক পরাজয় দলকে মানসিকভাবে দুর্বল করেছে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সাফল্য অর্জনের জন্য ত্বরিত পরিবর্তন প্রয়োজন।
সোহান জোর দিয়ে বলেছেন, “বোলিং, ব্যাটিং বা ফিল্ডিং যেকোনো ক্ষেত্রে আমাদের দল হিসেবে একসাথে খেলতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “লিগ পর্যায়ে এখনও তিনটি ম্যাচ বাকি আছে, সেগুলোই আমাদের জন্য পুনরুদ্ধারের সুযোগ হবে।” তার কথায় দলীয় সমন্বয় ও আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
রবিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাইডার্সের রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে ম্যাচে তাওহিদ হৃদয় ৯৭ রান করে দলের মোট স্কোর ১৭৮ রান বাড়িয়ে তুলেছিলেন। তাওহিদের এই আক্রমণাত্মক ইনিংস দলকে একটি শক্তিশালী লক্ষ্য স্থাপন করেছিল, তবে তা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জবাব ছিল মুহাম্মদ ওয়াসিম ও নাজমুল হোসেন শান্তরের দৃঢ় ব্যাটিং পারফরম্যান্স। উভয় খেলোয়াড়ই ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহ করে রাইডার্সের স্কোরের তুলনায় ছয় উইকেটের পার্থক্যে ম্যাচটি জিততে সক্ষম হয়েছেন। তাদের সমন্বিত আউটপুট রাইডার্সের ব্যাটিং দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত রাজশাহীকে জয় এনে দিয়েছে।
পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে সোহান ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন, “ফিল্ডিংয়ে আমাদের ঘাটতি ছিল, যা সরাসরি রাইডার্সের স্কোর কমাতে এবং প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সুযোগ দিতে ভূমিকা রেখেছে।” এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ফিল্ডিং উন্নত না হলে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সাফল্যও যথাযথ ফল দেবে না।
লিগ পর্যায়ের শেষ তিনটি ম্যাচ রাইডার্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সুযোগ। পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে দলটি কি সমন্বিতভাবে খেলতে পারবে এবং ফিল্ডিংয়ের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে, তা নির্ধারণ করবে সিজনের শেষ ফলাফল। সোহানের নেতৃত্বে রাইডার্স যদি দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করে, তবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রংপুর রাইডার্সের বর্তমান অবস্থা চ্যালেঞ্জিং হলেও, ক্যাপ্টেনের স্পষ্ট আহ্বান এবং দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বিত প্রচেষ্টা যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে বাকি তিনটি ম্যাচে জয় অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় দায়িত্ব বৃদ্ধি, ফিল্ডিংয়ের উন্নতি এবং সমন্বিত কৌশলই রাইডার্সকে পুনরায় টেবিলে শীর্ষে ফিরিয়ে আনতে মূল চাবিকাঠি হবে।



