সিলেটের গৃহস্থালি মাঠে রবিবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL) ম্যাচে আফগান ক্রিকেটার মোহাম্মদ নাবি এবং তার ১৯ বছর বয়সী পুত্র হাসান ইসাখিল একই দলে নামেন। নাবি নোয়াখালি এক্সপ্রেসের হয়ে ধাকা ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হয়ে খেললেন, যেখানে ইসাখিল তার প্রথম BPL ম্যাচে অংশ নিলেন। দুজনের উপস্থিতি এবং পারফরম্যান্স সিলেটের ভক্তদের জন্য স্মরণীয় একটি মুহূর্ত তৈরি করে।
ম্যাচের আগে ইসাখিলকে ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়, যা তার পেশাদার ক্যারিয়ারের সূচনা চিহ্নিত করে। ক্যাপ গ্রহণের সময় নাবি ও ইসাখিলের মধ্যে গড়ে ওঠা আবেগপূর্ণ দৃশ্যটি স্টেডিয়ামের চারপাশে গুঞ্জন তুলেছিল। এই ধরনের পারিবারিক সমাবেশ BPL-এ বিরল, ফলে দর্শক ও মিডিয়া উভয়ই এই দৃশ্যকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছে।
ডেবিউ ম্যাচে ইসাখিল ৬০-ballে ৯২ রান সংগ্রহ করে দলের শীর্ষ স্কোরার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তার আক্রমণাত্মক খেলা দ্রুতই ধাক্কা দিলো, এবং তিনি শীঘ্রই দলের মোট স্কোরে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেন। ইসাখিলের এই উচ্চ স্কোরটি তার তরুণ বয়সের সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক টিএ২০ পর্যায়ে তার সম্ভাবনা প্রকাশ করে।
ইসাখিলের আক্রমণাত্মক শটের পাশাপাশি, তিনি পিতার সঙ্গে চতুর্থ উইকেটের জন্য ৫৩ রান যুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তুললেন। এই অংশীদারিত্বে নাবি ১৩ ডেলিভারিতে ১৭ রান যোগ করেন, যা দ্রুতগতির আক্রমণে সমর্থন যোগায়। দুজনের সমন্বয়মূলক খেলা নোয়াখালি এক্সপ্রেসকে মাঝারি চাপের মধ্যে রাখে এবং প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ব্যাহত করে।
মোহাম্মদ নাবি, ৪১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ অল-রাউন্ডার, তার দ্রুত গতি ও শক্তি দিয়ে ১৩ ডেলিভারিতে ১৭ রান তৈরি করেন। তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রভাবশালী পারফরম্যান্স পুত্রের আক্রমণকে সমর্থন করে এবং দলের মোট স্কোরে অতিরিক্ত স্থিতিশীলতা যোগায়। নাবি ও ইসাখিলের এই যৌথ উপস্থিতি দলীয় মনোবলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নোয়াখালি এক্সপ্রেসের সামগ্রিক স্কোর এবং ম্যাচের ফলাফল মূল সংবাদে উল্লেখ না থাকলেও, পিতামাতার এই অনন্য সমাবেশ এবং ইসাখিলের উচ্চ স্কোর ইতিমধ্যে লিগের আলোচনায় স্থান পেয়েছে। উভয়ের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলটি প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এই ম্যাচের আগে, জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত শ্যাপেজা ক্রিকেট লিগে নাবি ও ইসাখিল একে অপরের বিপক্ষে খেলেছিলেন। সেই সময়ে দুজনই আলাদা দলে ছিলেন, যা এই ম্যাচকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। দুই বছর আগে একই টুর্নামেন্টে পিতামাতার মুখোমুখি হওয়া এখন পিতামাতার সহযোগিতায় রূপান্তরিত হয়েছে।
পিতামাতার একসাথে মাঠে নামা ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল ঘটনা, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক টিএ২০ লিগে। এ ধরনের সমাবেশ ক্রীড়া জগতে পারিবারিক বন্ধন ও প্রশিক্ষণের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। নাবি ও ইসাখিলের সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও পারিবারিক দল গঠনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
দলীয় কোচ এবং সহকর্মীরা এই পারিবারিক সমাবেশকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। কোচের মতে, পিতার অভিজ্ঞতা ও পুত্রের উত্সাহের সমন্বয় দলকে নতুন কৌশলগত বিকল্প প্রদান করে। এছাড়া, তরুণ খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পিতার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নোয়াখালি এক্সপ্রেসের পরবর্তী ম্যাচে তারা আবার ধাকা ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হবে, যা এই দুই পিতামাতার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করবে। দলটি এই ম্যাচে পিতামাতার সমন্বিত শক্তি ব্যবহার করে স্কোর বাড়াতে চায়।
বিএপিএল সিজন চলাকালীন এ ধরনের পারিবারিক মুহূর্ত লিগের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয় এবং দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে। আফগান ক্রিকেটার নাবি ও তার পুত্রের এই সমাবেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে আফগান ট্যালেন্টের উত্থানকে নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে আরও পরিবারিক দল গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ক্রীড়া সংস্কৃতিতে নতুন রঙ যোগাবে।
সিলেটের এই স্মরণীয় ম্যাচটি শুধু স্কোরের জন্য নয়, বরং পিতামাতার সমন্বয় ও তরুণ প্রতিভার উত্থানের জন্যও একটি মাইলফলক হিসেবে রেকর্ডে থাকবে।



