ঢাকা শহরে গত সপ্তাহে ব্যবসায়ী মোসাব্বিরের গৃহে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। মৃতের বয়স প্রায় ছিয়ত্রিশ বছর এবং তিনি স্থানীয় বাণিজ্যিক সম্প্রদায়ে পরিচিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তে গুলি চালানোর অস্ত্র ও গুলি ছিটা পাওয়া যায়।
ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যবসায়িক বিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মৃতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বাণিজ্যিক চুক্তি ও লেনদেনের তীব্রতা বাড়ে যাওয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে।
ডিবি অনুসারে, ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলি ছিটা এবং গুলি চালানোর অস্ত্রের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, মৃতের ব্যবসায়িক অংশীদার ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার সময় গৃহের সিকিউরিটি ক্যামেরা কাজ করছিল না। তবে আশেপাশের দোকান ও গৃহের দরজা-জানালার কাছাকাছি থাকা অন্যান্য ক্যামেরা থেকে রেকর্ডিং সংগ্রহের কাজ চলছে।
ডিবি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, গৃহে প্রবেশের সময় কোনো জোরপূর্বক প্রবেশের চিহ্ন দেখা যায়নি, ফলে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। গৃহের ভেতরে কোনো চুরি বা সম্পত্তি হরণের লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
মোসাব্বিরের পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৃতের ব্যবসা সম্প্রতি কিছু আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। তবে এই সমস্যাগুলি সরাসরি হত্যার সঙ্গে যুক্ত কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়।
ডিবি তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করেছে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, গুলি চালানোর অস্ত্রের গঠন পরীক্ষা এবং গৃহের আশেপাশের এলাকার গৃহস্থালির সাক্ষ্য সংগ্রহ। এই সব তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করা হবে।
অধিক তদন্তের জন্য ডিবি স্থানীয় আদালতে অনুমোদন চেয়েছে, যাতে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। বর্তমানে কোনো গ্রেফতার করা হয়নি, তবে সন্দেহভাজনদের তালিকায় কয়েকজন ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে ব্যবসায়িক বিরোধই মূল কারণ, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর ব্যবসা-সংক্রান্ত অপরাধের ধারা প্রয়োগ করা হবে। এধরনের অপরাধের শাস্তি আইনের অধীনে কঠোরভাবে নির্ধারিত।
মোসাব্বিরের পরিবার এই ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার চেয়েছে। তারা দাবি করেছে, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার বিভাগ এই মামলায় বিশেষ নজর দেবে। ডিবি ইতিমধ্যে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য শেয়ার করছে, যাতে সব দিক থেকে তদন্ত সম্পন্ন হয়।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে গৃহ ও অফিসের সিকিউরিটি ক্যামেরা, প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সেবার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



