বেঙ্গলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিএসিবি) আজ তার ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে। এই ব্যাখ্যা প্রকাশের পেছনে ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইওর ইউনিটের ওপর কঠোর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্পষ্টতা আনা হয়েছে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের কাজকে অতিরিক্ত কঠোর ও অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেন। তার মন্তব্যের পর, বেসিক তথ্যের ঘাটতি দূর করতে বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একটি বিবৃতি জারি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্টেগ্রি ইউনিটের মূল দায়িত্ব হল খেলোয়াড়, কোচ ও অফিসিয়ালদের মধ্যে কোনো দুর্নীতি, জুয়া বা ডোপিং সংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যকলাপ সনাক্ত ও তদন্ত করা। এই কাজটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের নির্দেশনা অনুসারে পরিচালিত হয়।
ইউনিটের রুটিন কাজের মধ্যে রয়েছে ম্যাচের আগে ও পরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাৎকার, আর্থিক লেনদেনের পর্যালোচনা, এবং টিমের ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ সময়সূচি যাচাই। এছাড়া, সন্দেহজনক ফোন কল বা ইমেইল পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করা হয়।
বিএসিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এই প্রক্রিয়াগুলি কোনো একক দল বা খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে না; বরং পুরো দেশের ক্রিকেট পরিবেশকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে সমগ্র সিস্টেমের অংশ হিসেবে কাজ করে। তাই, ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইওর উদ্বেগকে বোঝা সত্ত্বেও, ইউনিটের কাজকে কোনো পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিতে নয়, বরং নীতি অনুসারে চালানো হচ্ছে।
ইন্টেগ্রি ইউনিটের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বিশেষ করে আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৫-২৬ মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ। লিগের সময়সূচি অনুযায়ী, ইউনিট প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে পর্যবেক্ষণ চালাবে, যাতে কোনো অনিয়মের সম্ভাবনা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়।
বিএসিবি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, “ইন্টেগ্রি ইউনিটের কাজ হল ক্রিকেটের স্বচ্ছতা রক্ষা করা, এবং তা করার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছি।” এই বক্তব্যে ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ও মানবিক পর্যবেক্ষণের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইওও পরে জানিয়েছেন, তিনি বোর্ডের স্পষ্টীকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে ইউনিটের কাজ আরও স্বচ্ছ ও সমন্বিত হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো দলকে অযথা লক্ষ্য করা উচিত নয়।
বিএসিবি শেষ করে উল্লেখ করেছে যে ইন্টেগ্রি ইউনিটের সব কার্যক্রম আইসিসি দ্বারা নির্ধারিত নীতিমালা ও গাইডলাইন অনুসারে পরিচালিত হয় এবং কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করা হবে। এই স্পষ্টীকরণ ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিপিএলের পরবর্তী ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে; ইউনিটের তদারকি নিশ্চিত করবে যে প্রতিটি খেলায় ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা বজায় থাকবে। সবশেষে, বেসিক তথ্যের স্বচ্ছতা ও সঠিক যোগাযোগই ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে মূল চাবিকাঠি।



