জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ১১ জানুয়ারি রবিবার করদাতাদের জন্য মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে বৃহৎ পরিমাণের কর পরিশোধের নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে করদাতারা ব্যাংকে শারীরিকভাবে না গিয়ে, মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে সরাসরি কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিকাশ লিমিটেডের অনলাইন মার্চেন্ট ওয়ালেট সেবা ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে এই সিস্টেমের মাধ্যমে উৎসে কর এবং মূসক (ভ্যাট) উভয়ই পরিশোধ করা হয়, যা কর সংগ্রহ প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে চিহ্নিত।
প্রথম ট্রায়াল পেমেন্টে মোট ১৩ কোটি টাকা উৎসে কর এবং ৬৪ কোটি টাকা ভ্যাট সফলভাবে পরিশোধ করা হয়। এই পরিমাণের লেনদেন একক সেশনে সম্পন্ন হওয়ায় করদাতাদের সময় ও শ্রমের সাশ্রয় স্পষ্ট হয়েছে।
এনবিআরের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উল্লেখ করেন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বড় অঙ্কের কর পরিশোধ চালু হওয়ায় কর সংগ্রহের গতি ও স্বচ্ছতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, এই সেবা করদাতাদের জন্য সময়মত এবং সহজ পেমেন্টের সুযোগ দেবে, যা আর্থিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সহায়ক হবে।
চেয়ারম্যানের মতে, বর্তমানে অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান কর্মচারীর বেতন ও ভাতা এমএফএসের মাধ্যমে প্রদান করে। নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে একই প্ল্যাটফর্মে উৎসে কর, ভ্যাট এবং অন্যান্য করের পেমেন্ট একসাথে করা সম্ভব হবে, ফলে আর্থিক ব্যবস্থাপনা একত্রিত হবে এবং প্রক্রিয়ার জটিলতা কমবে।
এমএফএস পেমেন্টের পাশাপাশি এনবিআরের ই-টিডিএস (eTDS) সিস্টেম এবং অর্থ বিভাগের এ-চালান সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। এই সংহতকরণ করদাতাদের জন্য একাধিক ডিজিটাল চ্যানেল থেকে একসাথে পেমেন্ট করার সুবিধা এনে দেবে, যা পেমেন্টের নির্ভুলতা এবং রেকর্ডের স্বচ্ছতা বাড়াবে।
ডিজিটাল পেমেন্টের ফলে লেনদেনের সময় কমে এবং ব্যয় হ্রাস পায়, ফলে করদাতাদের পেমেন্টের ইচ্ছা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। স্বচ্ছতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর ফাঁকি ও দেরি কমে, যা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। এছাড়া, রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিক নীতি নির্ধারণে আরও সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।
এনবিআর এই ধরনের উদ্যোগকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবে, যাতে ক্যাশলেস সরকারি আর্থিক সেবা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে। ডিজিটাল লেনদেনের পরিসর বাড়িয়ে কর সংগ্রহের আধুনিকায়ন এবং করদাতাদের সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
ফিনটেক সেক্টরের জন্য এই পদক্ষেপ একটি বড় সুযোগ তৈরি করে। বিকাশের মতো এমএফএস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কর পরিশোধের নতুন বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা পাবে, যা তাদের লেনদেনের পরিমাণ ও গ্রাহক ভিত্তি বাড়াবে। একই সঙ্গে, অন্যান্য এমএফএস প্ল্যাটফর্মও অনুরূপ সেবা চালু করলে প্রতিযোগিতা তীব্র হবে এবং সেবার গুণগত মান উন্নত হবে।
দীর্ঘমেয়াদে দেখা যাবে যে, মোবাইল ভিত্তিক কর পেমেন্টের গ্রহণযোগ্যতা কতটা দ্রুত বাড়ে এবং তা আর্থিক শৃঙ্খলা ও রাজস্ব সংগ্রহে কী প্রভাব ফেলে। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা, ডেটা গোপনীয়তা এবং সিস্টেমের স্থায়িত্বের বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন, যাতে কোনো সাইবার ঝুঁকি বা সেবা ব্যাঘাত না ঘটে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা হলে, ডিজিটাল কর পেমেন্টের মডেলটি দেশের আর্থিক অবকাঠামোর একটি মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেতে পারে।



