20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিময়মনসিংহে মৎস্য অধিদপ্তরের ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্পে পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি

ময়মনসিংহে মৎস্য অধিদপ্তরের ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্পে পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি

ময়মনসিংহ বিভাগে স্থায়িত্বশীল মৎসচাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। প্রকল্পটি মৎস্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে এবং মোট বাজেট প্রায় ৪৭ কোটি টাকার নির্ধারিত। বাস্তবায়নের সময়কাল জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত, এবং এতে বিভাগীয় চারটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪৬.৮২২৭ কোটি টাকা, তবে পরিকল্পনা কমিশন ব্যয়ের কিছু অংশকে অযৌক্তিক বলে চিহ্নিত করেছে। মূল লক্ষ্য মাছের চাষ বাড়ানো হলেও, বাজেটের বড় অংশ ভবন নির্মাণ, ভ্রমণ, প্রদর্শনী, গাড়ি ভাড়া ইত্যাদি খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে।

প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ১৭.৮১ কোটি টাকা ভ্রমণ, প্রদর্শনী, গাড়ি ভাড়া, মোটরসাইকেল ক্রয়, অফিস ভাড়া, অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর, আপ্যায়ন, বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য ভাতা খাতে নির্ধারিত হয়েছে। এই খরচের পরিমাণ প্রকল্পের মোট বাজেটের এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি।

এর পাশাপাশি আসবাবপত্র, এয়ার কন্ডিশনার, স্টেশনারি সামগ্রী ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২.২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ব্যয়গুলোও পরিকল্পনা কমিশনের মতে অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য ১.৭৫ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয় বলে কমিশন মন্তব্য করেছে।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৪,০০০ বর্গফুটের একতলা ভবন নির্মাণের জন্য ৩.০২ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নির্মাণ খরচকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্টাফিং পরিকল্পনায় মাত্র দুইজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবু ৩৫টি মোটরসাইকেল কেনার জন্য ১.৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী ও ব্যয়ের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো স্পেসিফিকেশন উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় ২৮টি সভা ও সেমিনার আয়োজনের জন্য প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ধরনের ইভেন্টের জন্য ব্যয়ের পরিমাণও কমিশনের নজরে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে।

ল্যাব স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ১০.৫৩ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন এই ব্যয়কে অতিরিক্ত বলে চিহ্নিত করে, কারণ যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য কোনো স্পেসিফিকেশন উল্লেখ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত খাতে ব্যানার, ফেস্টুনসহ অন্যান্য প্রচারমূলক সামগ্রীর জন্য প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা পরিকল্পনা কমিশনের মতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়।

পরিকল্পনা কমিশন উল্লেখ করেছে যে, প্রকল্পের বেশিরভাগ ব্যয় মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত এবং ব্যয়ের বিশদে স্পষ্টতা না থাকায় তা নিয়মের পরিপন্থী। কমিশন প্রস্তাব করেছে যে, মন্ত্রণালয় ব্যয়ের ভিত্তি পুনর্বিবেচনা করে সংশোধিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।

মৎস্য অধিদপ্তর এখন এই আপত্তি মোকাবিলার জন্য সংশোধিত বাজেট ও ব্যয় পরিকল্পনা প্রস্তুত করে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনার অপেক্ষা করছে। অনুমোদন প্রাপ্ত হলে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবও নজরে রয়েছে; যদি ব্যয়ের অস্বচ্ছতা দূর না হয়, তবে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে, সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহের মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments