20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরান ইউ.এস. আক্রমণে প্রতিক্রিয়া জানাবে, প্রতিবাদে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০‑এর বেশি

ইরান ইউ.এস. আক্রমণে প্রতিক্রিয়া জানাবে, প্রতিবাদে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০‑এর বেশি

শনি রাতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ঘোষণা করেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক আক্রমণ চালায়, তবে ইসরায়েল ও অঞ্চলের সব আমেরিকান সামরিক ও নৌবাহিনীর ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্য হবে। এই সতর্কতা আসছে এমন সময়ে, যেখানে দেশের বিভিন্ন শহরে মুদ্রাস্ফীতি ও দারিদ্র্যের কারণে ব্যাপক প্রতিবাদ চলমান।

প্রদর্শকরা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও সুপারভাইজার আলি খামেনির ধর্মীয় শাসন শেষের দাবি তুলে ধরছে, এবং সরকারী দমন নীতি সত্ত্বেও রাস্তায় নেমে এসেছে। প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী মানুষদেরকে “ঈশ্বরের শত্রু” বলে অভিযুক্ত করে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিয়েছেন।

সুপ্রিম লিডার খামেনি এই আন্দোলনকে “ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার জন্য ভাঙচুরকারী গোষ্ঠী” বলে সমালোচনা করেছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রতি “স্বাধীনতা”র সন্ধানে থাকা দেশকে সমর্থন জানিয়ে, “আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত” বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রতিবাদে মৃত্যুর সংখ্যা ও আহতের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। দুইটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, গত দুই দিনে একশের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে নিরাপত্তা কর্মীও অন্তর্ভুক্ত।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা অপ্রতিরোধ্যভাবে বেড়ে গেছে। রাশ্ত শহরের একটি হাসপাতাল এক রাতে ৭০টি দেহ গ্রহণ করেছে, আর তেহরানের আরেকটি হাসপাতাল প্রায় ৩৮টি মৃত্যু রেকর্ড করেছে। চিকিৎসকরা জানান, আহত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

ইরানের পুলিশ চিফ রাষ্ট্র টিভিতে উল্লেখ করেছেন, প্রতিবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শনি রাতে কিছু “মূল ব্যক্তিত্ব”কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মৃত্যুর একটি বড় অংশ প্রশিক্ষিত ও নির্দেশিত গোষ্ঠীর কাজের ফল, নিরাপত্তা বাহিনীর নয়, তবে বিস্তারিত তথ্য দেননি।

ডিসেম্বর ২৮ তারিখে শুরু হওয়া প্রতিবাদে এখন পর্যন্ত ২,৫০০ের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থা এই সংখ্যা প্রকাশ করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছাত্র, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত।

ইরান সরকার বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে দেশের ভিতরে থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া সংস্থাগুলোও দেশের ভিতরে সরাসরি রিপোর্ট করতে পারছে না।

এই পরিস্থিতিতে কিছু ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে প্রকাশ পেয়েছে, যা প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য দেখায়। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা ও সম্পূর্ণতা যাচাই করা এখনও সম্ভব হয়নি।

ইরানের সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপকে সরাসরি মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, এবং ইসরায়েলসহ অন্যান্য আমেরিকান ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, প্রতিবাদকারীরা অর্থনৈতিক সংকট ও ধর্মীয় শাসনের বিরোধিতা করে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরছে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

পরবর্তী দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক কথোপকথন বা সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীভূত হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments