ইসলামাবাদের একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে গৃহবিধ্বংসী বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে নবদম্পতি, তাদের পরিবার ও অতিথি সহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। ঘটনাটি রবিবার সকাল প্রায় ৭ টায় (স্থানীয় সময়) ঘটেছে, যখন দম্পতি ও তাদের আত্মীয়স্বজন বিবাহের পার্টি শেষ করে ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
বিস্ফোরণের ফলে ঘরের ছাদ ধসে পড়ে, দেয়াল ভেঙে গিয়ে ইটের গাদা, বড় কংক্রিট স্ল্যাব এবং ফার্নিচার মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে থাকা আহতরা উদ্ধারকর্মীর সাহায্যে স্ট্রেচারে তুলে নেওয়া হয়।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গ্যাস লিকের ফলে ঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটেছে। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী তিনটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলাকার প্রবেশ সীমা নির্ধারণ করে তদন্ত শুরু করেছে এবং সাদা স্যুট পরা ফরেনসিক দলকে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে অনুসন্ধান করতে পাঠানো হয়েছে।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সাহিবজাদা ইউসুফ জানান, কুকুর এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ থেকে বেঁচে থাকা সকলকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের সংখ্যা এক ডজনের বেশি, যাদের মধ্যে কিছু গুরুতর আঘাতের শিকার।
গণতান্ত্রিক পাকিস্তানের সিনেটের চেয়ারম্যান ইউসুফ রজা গিলানি ঘটনাটিকে “হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করে, “উৎসবের আনন্দকে শোকের ছায়ায় রূপান্তরিত করেছে” বলে মন্তব্য করেন। তিনি গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
বিবাহের গর্বিত পিতা হানিফ মাসিহ জানান, তার পুত্রের বিয়ে আগের দিনই সম্পন্ন হয়েছিল এবং দম্পতি, তাদের মা, বোন এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজন রাত ৩ টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ে ছিলেন। তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে তারা ধ্বংসাবশেষের মুখোমুখি হন। গিলানি ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার মন্তব্য অনুসারে, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী গৃহগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবই এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ।
পুলিশের মতে, বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষী ও জরুরি সেবা দল উপস্থিত হয় এবং মৃতদেহ পুনরুদ্ধার, আহতদের ত্রাণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করে। ফরেনসিক দল ধ্বংসাবশেষে গ্যাস লিকের সুনির্দিষ্ট উৎস ও সম্ভাব্য ত্রুটি নির্ণয়ের জন্য বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
পাকিস্তানের বেশিরভাগ গৃহস্থালী লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না ও গৃহস্থালী কাজ সম্পন্ন করে। অতীতেও গ্যাস লিকের কারণে অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। গিলানি উল্লেখ করেন, “এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর দায়িত্ব পালন করা অপরিহার্য।”
অধিক তদন্তে গ্যাস সিলিন্ডারের সংরক্ষণ, ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের পদ্ধতি, পাশাপাশি গৃহের বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় সম্প্রদায় শোক প্রকাশ করেছে এবং মৃতদের পরিবারকে সমর্থন জানিয়েছে। সরকারী ও বেসরকারি সংস্থা দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী ও মানসিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



