20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাআইসিসিবিতে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬ উদ্বোধন

আইসিসিবিতে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬ উদ্বোধন

ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি (আইসিসিবি) বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং এক্সপো‑২০২৬ (গ্যাপেক্সপো‑২০২৬) উদ্বোধন করেছে। এই ইভেন্টে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে এবং মোট ১,৫০০টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি সহ ১৮টিরও বেশি দেশের কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। এদের উপস্থিতি গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং সেক্টরের আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা বাড়াতে, নতুন ক্রেতা সন্ধান করতে এবং সর্বশেষ প্রযুক্তি ও মেশিনারির সঙ্গে দেশীয় উৎপাদনকারীদের সংযোগ স্থাপন করতে লক্ষ্য রাখে।

গ্যাপেক্সপো‑২০২৬ আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রা. লিমিটেড এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)। উভয় সংস্থা একসাথে এই ইভেন্টের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধান করছে।

একই সময়ে, গ্যাপেক্সপো‑২০২৬-এর পাশাপাশি গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ‑২০২৬ নামের একটি সমান্তরাল ইভেন্টও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গার্মেন্টস শিল্পের প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে। দু’টি ইভেন্টের সমন্বয় শিল্পের সমগ্র ইকোসিস্টেমকে একত্রিত করে, সরবরাহ শৃঙ্খলা থেকে শেষ পণ্য পর্যন্ত সব স্তরে সংযোগের সুযোগ সৃষ্টি করে।

বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার উল্লেখ করেন, গ্যাপেক্সপো‑২০২৬ ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবং এটি এই সিরিজের ১৫তম সংস্করণ। তিনি গ্লোবাল প্যাকেজিং পণ্যের চাহিদা বিশাল হলেও বাংলাদেশ এখনও প্রত্যাশিত রপ্তানি শেয়ার অর্জন করতে পারছে না, তা উল্লেখ করেন।

শাহরিয়ার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রপ্তানি প্রণোদনার অভাব এবং নীতিগত সহায়তার ঘাটতি মূল বাধা। চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো প্যাকেজিং সেক্টরে ৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি প্রণোদনা প্রদান করে, যেখানে বাংলাদেশে সরাসরি প্যাকেজিং রপ্তানিতে কোনো প্রণোদনা নেই। এই পার্থক্য রপ্তানি সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলছে।

গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং সেক্টরকে রপ্তানি প্রণোদনার আওতায় না আনার ফলে শিল্পের বৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে, গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য নির্ধারিত নীতি ও ব্যাংকিং সুবিধা এই সেক্টরে প্রযোজ্য হয় না, যা আর্থিক প্রবেশের বাধা তৈরি করে।

শাহরিয়ার আরও জানান, ব্যাংক ফাইন্যান্সিং, কাস্টমস সুবিধা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা বাস্তবে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পে যথাযথভাবে প্রয়োগ হয় না। ফলে এই শিল্পের উদ্যোক্তারা আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বাজার বিশ্লেষকেরা এই পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, নীতিগত সমন্বয় ছাড়া সেক্টরের রপ্তানি সম্ভাবনা সীমিত থাকবে। রপ্তানি প্রণোদনা, কাস্টমস রিবেট এবং বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের মতো প্রো-ব্যবসা নীতি প্রয়োগ করলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়বে এবং উৎপাদন খরচ কমে যাবে।

গ্যাপেক্সপো‑২০২৬-এ প্রদর্শিত আধুনিক মেশিনারি ও প্রযুক্তি স্থানীয় উৎপাদনকারীদের জন্য আপগ্রেডের সুযোগ প্রদান করে। যদি সরকার এই প্রযুক্তি গ্রহণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, তবে উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানি পণ্যের গুণগত মান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে।

দীর্ঘমেয়াদে, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং সেক্টরের উন্নয়ন দেশের মোট রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করবে। বর্তমানে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি প্রধান হলেও, অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং যোগ করলে মূল্য সংযোজনের স্তর বাড়বে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলায় বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত হবে।

তবে, নীতিগত অগ্রাধিকার না দিলে সেক্টরের বৃদ্ধিতে ঝুঁকি রয়ে যাবে। বিশেষ করে, রপ্তানি প্রণোদনা না থাকলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা চীনা ও ভিয়েতনামি সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকবে, যা বাজার শেয়ার হ্রাসের কারণ হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, গ্যাপেক্সপো‑২০২৬ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের আন্তর্জাতিক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে। তবে শিল্পের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রপ্তানি প্রণোদনা, আর্থিক সুবিধা এবং নীতিগত সমর্থন জরুরি। এই বিষয়গুলো সমাধান হলে বাংলাদেশ গ্লোবাল প্যাকেজিং বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদার হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments