28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রফেসর রোমান শুয়োর উপর ছাত্রদের আক্রমণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রফেসর রোমান শুয়োর উপর ছাত্রদের আক্রমণ

২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় সহকারী প্রফেসর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুয়োর উপর এক দল ছাত্রের হিংসাত্মক আক্রমণ ঘটেছে। আক্রমণটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের অফিস সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। ভিডিও রেকর্ডে দেখা যায়, মামুন ও তার সহচররা শিক্ষককে গলায় ধরে টেনে প্রোডেক্টরের অফিসে নিয়ে যায়।

ভিডিও ক্লিপগুলো স্পষ্টভাবে দেখায়, শিক্ষককে গলায় টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সময় শিক্ষকের গলায় চাপ প্রয়োগ করা এবং তাকে প্রোডেক্টরের কক্ষে নিয়ে যাওয়া দৃশ্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

আক্রমণের নেতৃত্ব দায়িত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন, যিনি ছাত্র ইউনিয়নের অফিস সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত ছিলেন। তার ভূমিকা ছিল ছাত্রদের শৃঙ্খলা রক্ষা করা, তবে এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি সরাসরি হিংসা চালানোর দায়িত্ব নেন।

আক্রমণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা শাস্তি জানানো হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।

আক্রমণকে “সুরক্ষামূলক কাজ” বলে মামুনের মন্তব্যের পরেও গলায় টেনে নেওয়া কাজটি স্পষ্টভাবে শারীরিক হিংসা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। শিক্ষকের ওপর “কিছু ছাত্র তাকে মারতে চেয়েছিল” এমন যুক্তি দিয়ে মামুনের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না; বরং এটি দেখায় যে একটি ছাত্র নেতার নেতৃত্বে একটি দল গঠন করে হিংসা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ন্যায়বিচারিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে হয়, না যে জনসমাবেশের মাধ্যমে স্বৈরাচার চালাতে হয়। শিক্ষককে যদি কোনো অভিযোগের মুখে দাঁড়াতে হয়, তবে তা তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, ব্যক্তিগতভাবে শারীরিক আক্রমণ করা নয়।

প্রোডেক্টর নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে রোমান শুয়োর বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত চলছে। যদিও শিক্ষককে আইনি দায়ের মুখে দাঁড়াতে হতে পারে, তবু তা হিংসার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। চলমান তদন্তের সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন প্রয়োগ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের একটি উদাহরণ।

এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। কেন এমন হিংসা ভর্তি পরীক্ষার সময়, প্রকাশ্য স্থানে ঘটতে পারল, তবু তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করা হয়নি? কেন শিক্ষককে সুরক্ষিত রাখতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা এবং কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। হিংসা ও ভয় দেখিয়ে সমস্যার সমাধান করা কেবল আইনবিরুদ্ধই নয়, শিক্ষার গুণগত মানকে ক্ষুণ্ণ করে।

পাঠকগণ, যদি আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হন, তবে আপনার মতামত ও প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে দিন। ক্যাম্পাসে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments