ঢাকা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং এক্সপো-২০২৬ (গ্যাপএক্সপো) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সময়ে গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ-২০২৬ নামক সমান্তরাল প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হবে। এই দুইটি ইভেন্ট বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) ও এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত।
বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার লা ভিন্সি হোটেল ঢাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গ্যাপএক্সপোর লক্ষ্যকে গার্মেন্টস সেক্টরের সব স্টেকহোল্ডারকে একত্রিত করে পণ্য প্রচার, ক্রেতা সংযোগ, নেটওয়ার্কিং এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সমন্বিত মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই মঞ্চের মাধ্যমে গার্মেন্ট এক্সেসরিজ, প্যাকেজিং, কাঁচামাল, নতুন ও পুরোনো যন্ত্রপাতি, সুতা, ফ্যাব্রিক এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যসমূহের বাণিজ্যিক লেনদেন সহজতর হবে।
গ্যাপএক্সপোর প্রথম সংস্করণ ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখন মাত্র ৩৬টি স্টল ছিল। বর্তমান সংস্করণে মোট দশটি হল ব্যবহার করা হবে, যার মধ্যে চারটি প্রধান হল এবং বাকি অর্ধ-হলগুলোকে মিলিয়ে অতিরিক্ত স্থান গঠন করা হয়েছে। প্রায় ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান ১,৫০০টি স্টল দখল করবে, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এই বছর গ্যাপএক্সপোতে ১৮টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান উপস্থিত হবে। ভারতের, জাপানের, ভিয়েতনামের, চীনের, দক্ষিণ কোরিয়ার, জার্মানির পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকেও বহু কোম্পানি তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের জন্য আসবে। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের ফলে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের জন্য নতুন বাজারের দরজা খুলে যাবে এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়বে।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য ২,১০০টি বিজিএপিএমইএ সদস্য কোম্পানি, ৪,০০০টিরও বেশি বিজিএমইএ সদস্য প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বিকেমিএ সদস্য সংস্থা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই বিস্তৃত আমন্ত্রণ তালিকা ইভেন্টের ব্যাপক প্রচার এবং শিল্পের সকল স্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
আয়োজকরা আশা করছেন যে গ্যাপএক্সপোতে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০টি ব্যবসায়িক দর্শনার্থী উপস্থিত হবে, এবং মোট দর্শনার্থীর সংখ্যা ৮০,০০০ের কাছাকাছি পৌঁছাবে। এই পরিমাণের ভিজিটর গ্যাপএক্সপোর ব্যবসায়িক সুযোগকে সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করতে সক্ষম হবে এবং রেডি-মেড গার্মেন্টস রপ্তানি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্যাকেজিং সামগ্রীর সরবরাহে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য হল রেডি-মেড গার্মেন্টস রপ্তানি সেক্টরের জন্য এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্যের অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এই সরবরাহ শৃঙ্খলকে ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা। গ্যাপএক্সপোতে নতুন প্রযুক্তি, উচ্চমানের উপকরণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রদর্শিত হবে, যা স্থানীয় উৎপাদনকারীদের উৎপাদন দক্ষতা ও গুণগত মান উন্নত করতে সহায়তা করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গ্যাপএক্সপোর মাধ্যমে দেশীয় সরবরাহকারীদের আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও পার্টনারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সুযোগ বাড়বে, ফলে রপ্তানি চ্যানেল সম্প্রসারণ এবং মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ স্থানীয় শিল্পে প্রতিযোগিতা তীব্র করবে, যা গুণমান ও উদ্ভাবনে চাপ বাড়াবে।
গ্যাপএক্সপো ২০২৬ এর সফল সমাপ্তি গার্মেন্টস শিল্পের পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইভেন্টের সময়সূচি, অংশগ্রহণকারী তালিকা এবং ব্যবসায়িক মেলামেশা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি শেষ হওয়া পর্যন্ত গ্যাপএক্সপো ঢাকায় ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।



