চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় রবিবার বিকেলে তামিম ইকবালকে সমর্থনকারী গোষ্ঠী একটি মানববন্ধন আয়োজন করে, যেখানে বিসিবি পরিচালক এম. নাজমুল ইসলামের তামিমের প্রতি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য জনসাধারণের ক্ষমা চাওয়া হয়। তামিমের ‘ভারতের দালাল’ উপাধি ব্যবহার করা মন্তব্যকে অবমাননাকর বলে গোষ্ঠী নাজমুলের পদত্যাগের দাবি জানায় এবং ক্ষমা না চাইলে তাকে চট্টগ্রামের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার হুমকি দেয়।
প্রতিবাদী সমাবেশটি কাজীর দেউড়ি এলাকায় বিকাল চারটায় শুরু হয়, যেখানে উপস্থিত সমর্থকরা নাজমুলের প্রকাশ্য ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত শহরজুড়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেন। মানববন্ধনের মূল লক্ষ্য ছিল নাজমুলকে তার মন্তব্যের জন্য দায়বদ্ধ করা এবং বিসিবি পরিচালকের পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তোলার মাধ্যমে তামিমের মর্যাদা রক্ষা করা।
গোষ্ঠীর একজন বক্তা, যিনি নগর ছাত্রদলের প্রাক্তন সহসভাপতি, তামিমকে ‘চট্টগ্রামের সূর্যসন্তান’ বলে বর্ণনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে তিনি কেবল একজন ক্রিকেটার নয়, দেশের গর্ব ও সম্পদ। তিনি তামিমের আন্তর্জাতিক সাফল্যকে দেশের সুনাম হিসেবে তুলে ধরে, এবং বলেন যে এমন একজন কিংবদন্তীর প্রতি ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যা দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল মন্তব্য নয়।
অন্য এক বক্তা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন আহ্বায়ক, তামিমের জাতীয় গর্বের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন যে লাল-সবুজের পতাকায় তামিমের নাম বিশ্ব মঞ্চে উজ্জ্বলভাবে দেখা গিয়েছে। তিনি তামিমের প্রতি আঘাতকারী মন্তব্যকে কেবল এক ব্যক্তির নয়, পুরো জাতির প্রতি অপমান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং নাজমুলের পদত্যাগের বিকল্প ছাড়া কোনো সমাধান নেই বলে জোর দেন।
প্রতিবাদী দলটি ‘তামিম জাতীয় বীর’, ‘তামিম চট্টলার গর্ব’ ইত্যাদি স্লোগানসহ ব্যানার তুলে ধরে, যা সমাবেশের আবেগময় পরিবেশকে আরও তীব্র করে। উপস্থিত সমর্থকরা তামিমের প্রতি তাদের অটুট সমর্থন প্রকাশ করে এবং নাজমুলের মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট ক্ষোভকে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করে।
বিসিবি’র বামহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামও ফেসবুকে নাজমুলের মন্তব্যের প্রতি তার বিস্ময় ও নিন্দা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে জাতীয় দলের একজন প্রাক্তন অধিনায়কের প্রতি এমন শব্দচয়ন রুচিহীন এবং দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির বিরোধী। তাইজুলের পোস্টে নাজমুলকে ক্ষমা চাওয়ার এবং তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান করা হয়েছে।
মানববন্ধনের অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্টভাবে নাজমুলের ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাকে চট্টগ্রামের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার হুমকি দেন এবং শহরজুড়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন যে নাজমুলের পদত্যাগই একমাত্র সমাধান, যাতে তামিমের সুনাম রক্ষা পায় এবং ভবিষ্যতে এমন মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি না হয়।
বিসিবি পরিচালক নাজমুলের মন্তব্যে তামিমকে ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল, যা তামিমের ক্যারিয়ার ও দেশের গর্বের প্রতি আঘাতকারী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সমালোচকরা এই শব্দচয়নকে ক্রীড়া জগতের নৈতিক মানদণ্ডের লঙ্ঘন হিসেবে দেখেন এবং তৎক্ষণাৎ ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।
এই মানববন্ধন তামিমের সমর্থক গোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে তারা ন্যায়বিচার, সম্মান ও জাতীয় গর্ব রক্ষার জন্য একত্রিত হয়েছে। নাজমুলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং বিসিবি’র প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে সমাবেশের আয়োজকরা নিশ্চিত যে তামিমের মর্যাদা রক্ষার জন্য তারা সব ধরনের আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।



