20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে...

ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা

রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস এবং দেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। উভয় পক্ষই নির্বাচনের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করেন।

বৈঠকে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আলোচনা মূলত গণভোটের কাঠামো ও সম্ভাব্য ফলাফলের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাতে পারে এবং তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা তৈরি করবে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এই বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসিস) সহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ইতিমধ্যে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা, ভোটার তালিকা, ভোট কেন্দ্রের সরঞ্জাম এবং পর্যবেক্ষক দলের সমন্বয়সহ সব দিক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইজাবসও বৈঠকে উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনের পূর্ব, চলমান ও পরবর্তী পর্যায়ে প্রযুক্তিগত ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে।

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘হ্যাঁ’ ভোটের আইনি দিক। প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়ে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেছে এবং শীর্ষস্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের লিখিত মতামত অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য কোনো আইনি বাধা নেই।

এই আইনি মতামত অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল যেভাবেই হোক না কেন, তা দেশের সংবিধান ও আইনগত কাঠামোর মধ্যে থাকবে। তাই, ভোটের বৈধতা ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন ওঠে না।

বৈঠকের পর, ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিরা দেশের নির্বাচন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে এবং পর্যবেক্ষণ মিশনের কার্যক্রমের সূচি চূড়ান্ত করতে সম্মত হন। এতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি, ভোটার তালিকা যাচাই এবং ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালু করা হবে। এতে টেলিভিশন, রেডিও ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা হবে।

ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবসও এ বিষয়ে সমর্থন প্রকাশ করেন এবং বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে তারা দেশের স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বৈঠকের শেষে, উভয় পক্ষই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা ও ফলাফলের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য সমন্বিত কাজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা বজায় রাখারও প্রতিশ্রুতি দেন।

এই বৈঠক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং দেশের শীর্ষ নীতি নির্ধারক একসাথে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা এবং আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে কোনো বাধা না থাকায়, নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তী ধাপে, ইইউ পর্যবেক্ষক দল দেশের নির্বাচন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যবেক্ষণ মিশনের বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে এবং নির্বাচনের পূর্বে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে নিশ্চিত করবে।

এইসব প্রস্তুতি ও সমন্বয় দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments