কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ১০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় গুলিবিদ্ধ হওয়া ৯ বছর বয়সী হুজাইফা আফনানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে শিশুটি কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছাব্রীজ এলাকায় গুলি চালানো গুলির শিকার হয়।
হুজাইফা আফনান লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা, তার পিতা জসিম উদ্দিন এবং মা হোসেনা বেগমের কন্যা। সে লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিশুটি স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা পায়, তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।
শুটিংয়ের পর প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানায় শিশুটি মারা গেছে, তবে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল দুপুরে জানিয়ে দেন যে তথ্যটি সঠিক নয় এবং শিশুটি জীবিত। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাসের মতে, শিশুটি গুলি চালিয়ে মারা যায়নি এবং তাকে চট্টগ্রামে রেফার করা হচ্ছে।
গোলাপী রঙের অ্যাম্বুলেন্সটি বিকাল ৪:৩০ টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন থেকে রওনা হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পৌঁছায়। মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ি এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, শিশুটি বিকাল ৪:৫০ টার কাছাকাছি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আইসিইউতে শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্তচাপের তীব্র পর্যবেক্ষণ চলছে।
শুটিংয়ের পর কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবাদকারীরা গুলিবিদ্ধ শিশুর ন্যায়বিচার দাবি করে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে। প্রতিবাদে সশস্ত্র বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, রোডব্লকিং নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তৎপর রয়েছে।
টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের অপর পার্শ্বে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও আরএসএ (আর্মি অফ রাইজিং সিল) এর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের প্রভাব এলাকায় উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। গত তিন দিন ধরে সীমান্তের পার্শ্বে বিস্তৃত গোলাগুলিতে স্থানীয় জনগণ আতঙ্কে বসবাস করছে, যা শুটিংয়ের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গুলিবিদ্ধ শিশুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, সে আইসিইউতে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি রক্তের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রক্ত সঞ্চালন ও অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি পাচ্ছে। চিকিৎসা দল শিশুর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে অতিরিক্ত শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হলে তা করা হবে।
স্থানীয় পুলিশ গুলিবিদ্ধের তদন্তে ফোরেনসিক দলকে জড়িয়ে ফেলেছে। গুলির ধরন, গুলির দিকনির্দেশনা এবং গুলিবিদ্ধের সময়ের সিকিউরিটি ক্যামেরা রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হবে। গুলিবিদ্ধের দায়ী সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য গ্যাং-সদস্যদের তালিকা ও গুলির উৎস অনুসন্ধান করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুলিবিদ্ধের ঘটনা গুলি চালানোর অপরাধ, গুলিবিদ্ধের ফলে শারীরিক ক্ষতি এবং শিশুর ওপর আঘাতের জন্য কঠোর শাস্তি ধার্য হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধের জন্য দায়ী ব্যক্তি গুলির মালিকানা, গুলি চালানোর উদ্দেশ্য এবং শিকারীর বয়স বিবেচনা করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি পেতে পারে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ও স্থানীয় জনগণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছে, একই সঙ্গে তদন্তে বাধা না দিয়ে তথ্য সরবরাহে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলিবিদ্ধের সম্পূর্ণ ঘটনার সত্য উদ্ঘাটনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।
শিশুটির স্বাস্থ্য অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারকে হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হবে। গুলিবিদ্ধের তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



