19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরেজা পাহলভি ইরানের বিশাল প্রতিবাদে ভূমিকা নিতে চান

রেজা পাহলভি ইরানের বিশাল প্রতিবাদে ভূমিকা নিতে চান

ইরানের সর্ববৃহৎ বিরোধী প্রতিবাদে রেজা পাহলভি, ৬৫ বছর বয়সী শেষ শাহের পুত্র, জাতীয় নেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় ভিডিও বার্তা ও সামাজিক মাধ্যমে ইরানীয়দের পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে চলেছেন। তার লক্ষ্য হল ইসলামী প্রজাতন্ত্রের দমনমূলক কাঠামোকে ধ্বংস করা এবং গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগে দেশ ত্যাগ করেন এবং তখন থেকে বিদেশে বসবাস করছেন। শাহী পরিবার থেকে উদ্ভূত তার রাজনৈতিক পরিচয় ও ঐতিহাসিক ভূমিকা, দেশীয় রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন আলো জ্বালাতে সহায়তা করছে। যদিও তিনি দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানে না গিয়েছেন, তার নাম এখনও কিছু অংশের মধ্যে সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে ইরানীয়দের প্রতিবাদকে প্রশংসা করে এবং দমনকে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এক সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, “আমরা সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ও তার দুর্বল দমনমূলক যন্ত্রকে হাঁটুর গোঁড়ায় নামিয়ে দেব।” এই বার্তাটি X (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয় এবং বিশাল সংখ্যক অনুসারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

পাহলভির সমর্থন কতটুকু, তা নির্ধারণ করা কঠিন। সামাজিক মাধ্যমে কিছু যাচাইকৃত ভিডিওতে প্রতিবাদকারীরা তার নাম উচ্চারণ করে এবং “শাহের জীবন দীর্ঘ হোক” চিৎকার করে দেখা যায়। তবে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী সরাসরি শাহী পরিবারের প্রতি নয়, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি করে, যেমন “ডিক্টেটরের শেষ” এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর বিরোধে স্লোগান।

অর্থনৈতিক অবনতি প্রতিবাদে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকাশীয় হামলা, এবং দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রা সংকট ইরানের অর্থনীতিকে কঠিন অবস্থায় নিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতি নাগরিকদের জীবনের মান হ্রাস করেছে এবং রাস্তায় বৃহৎ পরিসরের অসন্তোষের সঞ্চার ঘটিয়েছে।

উত্তর ইরানের ২৭ বছর বয়সী আজাদেহের একটি বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “রেজা পাহলভি যে সব কিছু শাসন সম্পর্কে শিখেছেন তা তার পিতার কাছ থেকে, যিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমাদের দরকার একটি গণতান্ত্রিক দেশ, এখন সময় এসেছে।” এই মন্তব্যটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে এবং পাহলভির প্রতি কিছুটা সমর্থন নির্দেশ করে।

পাহলভি পূর্বে ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবং ২০২২ সালের ব্যাপক প্রতিবাদে সক্রিয়ভাবে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। উভয় সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তার অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং ইরানীয়দের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছেন। তার বার্তা ও কার্যকলাপের ধারাবাহিকতা তাকে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে।

বিশাল প্রতিবাদ চলাকালীন রেজা পাহলভির ভূমিকা কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তার বার্তা যদি ব্যাপক জনগণকে অনুপ্রাণিত করে, তবে শাসন পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হতে পারেন। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতিক্রিয়া, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান, তার প্রভাবকে সীমাবদ্ধ করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, রেজা পাহলভি ইরানের বর্তমান অস্থির সময়ে একটি বিকল্প নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছেন। তার বিদেশি অবস্থান, ঐতিহাসিক পরিচয় এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় যোগাযোগ তাকে কিছু অংশের সমর্থন অর্জনে সহায়তা করেছে। তবে সমগ্র দেশের সমর্থন অর্জন ও বাস্তব রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে তাকে অভ্যন্তরীণ গতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তা কাঠামোর জটিলতা অতিক্রম করতে হবে। ভবিষ্যতে তার ভূমিকা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা ইরানের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments