কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলায় শুক্রবার বিকেলে তিনটি গাড়ির সংঘর্ষে চারজনের প্রাণহানি ঘটার পর, বাসের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনা স্থানীয় মহাসড়কে ঘটেছে এবং এতে একটি বাস, একটি অটো রিকশা এবং একটি মোটরসাইকেল জড়িত ছিল।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপে, শনিবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা সায়েদাবাদ থেকে বাসের মালিককে গ্রেফতার করে কুমিল্লা নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ৫১ বছর বয়সী ইউসুফ মাঝি, যিনি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর গ্রাম থেকে আসেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সিডিএম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ডাক নাম্বার ঢাকা মেট্টো‑ব‑১১‑১৮৫৮) বানিয়াপাড়া এলাকায় গতি হারিয়ে অটো রিকশার সাথে ধাক্কা খায়। ধাক্কা পাওয়ার পর বাস উল্টে যায় এবং নিচে থাকা একটি মোটরসাইকেল চেপে যায়।
উল্টে যাওয়া বাস ও চেপে যাওয়া মোটরসাইকেল দুটোই তৎক্ষণাৎ আগুনে জ্বলে ওঠে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বাসের ভেতরের যাত্রী এবং মোটরসাইকেল চালকসহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকের বাবা শামছুল আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি পরে আইনি পদক্ষেপ নেন।
মৃত্যুর পর শামীমের বাবা শামছুল আলম দাউদকান্দি মডেল থানায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়েছে যে, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকা এবং অযোগ্য চালককে গাড়ি চালাতে দেওয়া।
ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার মতে, বাসের ফিটনেস মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং চালকের অযোগ্যতা বিবেচনা করে বাসের মালিক ইউসুফ মাঝিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ইউসুফ মাঝি রোববার বিকালে আদালতে হাজির হন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সময়ে চালকেরও জমানত বা জেল শাস্তি নির্ধারিত হতে পারে, তবে তা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের উপর নির্ভর করবে।
হাইওয়ে পুলিশ তদন্তে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসের গতি সীমা অতিক্রম করা এবং নিয়ন্ত্রণ হারানো প্রধান কারণ। এছাড়া, অটো রিকশা ও মোটরসাইকেলের সঠিক রোড সিগন্যাল অনুসরণ না করা ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নিয়মের লঙ্ঘন এই ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেটের বৈধতা পরীক্ষা এবং চালকের যোগ্যতা যাচাইয়ের ওপর জোর দেবে বলে জানিয়েছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলায় শামীমের বাবা শামছুল আলমের আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি, হাইওয়ে পুলিশও সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করেছেন যে, রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ না হওয়া এবং চালকের যোগ্যতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সকল গাড়ি চালকেরই দায়িত্ব পালন করা উচিত, তা না হলে আইনি শাস্তি ও মানবিক ক্ষতি উভয়ই হতে পারে।



