বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু রবিবার দুপুরে ঢাকার ভাসানী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জিয়া মঞ্চের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিলে কথা রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে এবং ঐক্য ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
বুলু বলেন, এখন কোনো ব্যক্তিগত অভিমান রাখার সুযোগ নেই; কেউ মনোনয়ন পেয়েছে, কেউ পায়নি—এগুলো ভুলে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না এবং আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে দেখতে হলে এখন থেকেই কঠোর পরিশ্রমে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
বিএনপি শাসনকালে সুবিধা নিয়ে আজ ব্যাংক, বীমা, বিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কুল-কলেজের মালিক হয়ে যাঁরা, তারা এখন বিরোধী অবস্থানে রয়েছে, এ কথাও বুলু উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, এমন প্রার্থীও আছে, যাঁদের মাসিক আয় এক লাখ টাকা নয়, তবু প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করছেন; এই অর্থের উৎস সবাই জানে।
বুলু বলেন, এই ছায়া শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের কঠোরভাবে লড়াই করতে হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনে ঐক্যের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঐক্য ছাড়া কোনো পথ নেই।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বুলু বলেন, “ঐক্য, ঐক্য, ঐক্য আর সবার আগে বাংলাদেশ।” এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি দলীয় ঐক্যের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যিনি সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া দলীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ ইকবালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বরকত উল্লাহ বুলুর এই বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের প্রস্তুতি, যেখানে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, এখনই দলীয় সংহতি গড়ে তোলা এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ দূর করা জরুরি, যাতে নির্বাচনের সময় শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখা যায়।
বুলু শেষ করে বলেন, দলীয় সদস্যদের উচিত ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে সমগ্র দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করা, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত হয়।



