পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় রবিবার সকাল দশটায় রোবোটিক্স বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কুয়াকাটা পৌরসভা ও বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের যৌথ উদ্যোগে এই ইভেন্টটি প্রথমবারের মতো স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়। কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল বিজ্ঞান‑প্রযুক্তি শিক্ষায় আগ্রহ জাগিয়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি‑নির্ভর কর্মশক্তি গড়ে তোলা।
কর্মশালার আয়োজন কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল খান প্যালেসের অডিটোরিয়ামে করা হয়। এখানে ১২০ জন শিক্ষার্থী, যারা উপজেলায় অবস্থিত বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে নির্বাচিত, একাধিক ব্যাচে ভাগ হয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীরা রোবট নির্মাণের মৌলিক নীতি, সেন্সর ব্যবহার এবং প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক ধারণা সম্পর্কে হাতে‑কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
এই উদ্যোগে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নিয়াজ মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার ও সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন, যা শিক্ষকদের জন্যও একটি প্রশিক্ষণমূলক পরিবেশ তৈরি করে।
প্রশিক্ষণটি একাধিক ব্যাচে ভাগ করা হয়, প্রতিটি ব্যাচে প্রায় ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি ব্যাচের শীর্ষ শিক্ষার্থীকে রোবট তৈরির বেসিক কিট উপহার দেওয়া হয়। এই উপহারটি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রকল্পে ব্যবহার করার সুযোগ দেয় এবং বিজ্ঞান‑প্রযুক্তি শিক্ষায় তাদের উৎসাহ বাড়ায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ও পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেকের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি‑নির্ভর এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে এমন প্রজন্মই যারা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবে। তিনি কুয়াকাটার শিক্ষার্থীদের জন্য রোবোটিক্স প্রশিক্ষণকে সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি কুয়াকাটাকে শুধুমাত্র পর্যটন গন্তব্য নয়, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, রোবোটিক্সের মতো ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান‑প্রযুক্তি বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলবে এবং তাদের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হবে। কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দলগত কাজ, সমস্যার সমাধান এবং সৃজনশীল চিন্তাধারার অভ্যাস গড়ে তুলবে, যা ভবিষ্যৎ চাকরি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে।
কুয়াকাটা পৌরসভা ও বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের এই যৌথ উদ্যোগকে স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। উপকূলীয় অঞ্চলে প্রযুক্তি‑ভিত্তিক শিক্ষার প্রসারকে ত্বরান্বিত করার জন্য এ ধরনের কর্মশালা নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: রোবোটিক্সের মৌলিক ধারণা শিখতে চাইলে প্রথমে সহজ লেগো মাইন্ডস্টর্ম বা আরডুইনো কিট দিয়ে ছোট প্রকল্প শুরু করা উপকারী। অনলাইন টিউটোরিয়াল ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ সেশনের সুবিধা গ্রহণ করে ধাপে ধাপে জটিলতা বাড়ানো যায়। আপনার মতামত কী? আপনার স্কুলে এমন কোনো প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ চালু করা উচিত কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করুন।
কুয়াকাটার এই প্রথম রোবোটিক্স কর্মশালা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের ভিত্তি স্থাপন করবে।



