বরিশাল শহরের বেলস পার্কে রবিবার অনুষ্ঠিত বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ষোলো বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের অধীনে গুম, খুনসহ নানা নৃশংস অপরাধের ছায়া দেশকে আচ্ছন্ন করেছে এবং আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট না দিলে ঐ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।
রীয়াজের বক্তব্যের পটভূমিতে ২০০৯ থেকে চলমান রাজনৈতিক পরিবেশের উল্লেখ আছে, যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বেচ্ছা নিখোঁজ এবং রাজনৈতিক হত্যা ব্যাপকভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনাগুলোকে একত্রে ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করে, জনগণকে ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি না করতে সতর্ক করেন।
গণভোটের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের সংবিধানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় সনদের (জাতীয় পরিচয়পত্র) ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ করা। রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, মতের পার্থক্য থাকলেও দেশের মঙ্গলের জন্য সকল নাগরিককে একত্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তিনি ভোটারদের ভোটের গুরুত্ব ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
সম্মেলনটি বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভাগীয় কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। ইভেন্টের প্রধান অতিথি হিসেবে রীয়াজ উপস্থিত ছিলেন এবং তার পর বক্তৃতা দেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, যিনি সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন।
আলোচনার মধ্যে রীয়াজ জুলাই মাসে জাতীয় সনদের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সনদ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি দেশের নাগরিক সেবা উন্নত করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে দেশের আইনি ও প্রশাসনিক অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
মতবৈচিত্র্য থাকা স্বাভাবিক, তবে রীয়াজের মতে, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে ভোটের ফলাফল দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, যারা রীয়াজের বক্তব্যের সঙ্গে সমর্থনসূচক মন্তব্য করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং ইমাম সমিতির ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনজুর মোরশেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এবং বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল হাই নিজামী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে ছিলেন।
বিশেষ অতিথি মনির হায়দার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ না হলে খুনি‑মাফিয়া ফ্যাসিস্টরা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে বলে সতর্ক করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠী দেশ থেকে বহির্গত করা হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা চালাচ্ছে।
হায়দার আরও বলেন, এই অর্থের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা। তিনি দেশের স্বনির্ভরতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটকে অপরিহার্য বলে পুনরায় জোর দেন।
গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন হলে, ভবিষ্যতে জাতীয় সনদ ও অন্যান্য আইনি কাঠামোর আধুনিকীকরণ দ্রুততর হবে এবং ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর প্রভাব কমে যাবে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচারণা চালাবে, যাতে গণভোটের ফলাফল দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করে।



