ঢাকা, ১১ জানুয়ারি—গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সক্রিয় প্রচারণা চালাবে, এ বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রবিবার বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের ফলাফল দেশের শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ, তাই সরকার তথ্যের স্বচ্ছতা ও নাগরিকের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সবধরনের প্রচারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বিস্তারিতভাবে জানান, সরকার টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া এবং প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবে। তিনি যোগ করেন, এই প্রচারণা সম্পূর্ণভাবে সংবিধানিক বিধান এবং নির্বাচন আইনের অধীনে পরিচালিত হবে, কোনো অবৈধ বা অনৈতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে না। সরকার ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হটলাইন ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করেছে, যাতে ভোটের আগে যে কোনো সংশয় দূর করা যায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংবিধানিক কাঠামো এবং নির্বাচন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোটে প্রচারণা চালানোতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন, ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য আইনগত ভিত্তি যথেষ্ট, তবে তারা সতর্ক করেন যে কোনো প্রকারের ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার অবৈধ প্রচেষ্টা হলে তা কঠোর শাস্তির আওতায় পড়বে। এ ধরনের সম্ভাব্য লঙ্ঘন রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
শফিকুল আলম আরও জানান, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ইতিমধ্যে ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিকরণ এবং ভোটারদের জন্য সহজবোধ্য গাইডলাইন প্রকাশের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া, ভোটের সময়সূচি, ভোটদান পদ্ধতি এবং ফলাফল ঘোষণার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নাগরিকের কাছে স্বচ্ছ থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে গণভোটটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু এবং বৈধভাবে সম্পন্ন হয়।
বিপক্ষের কিছু নেতা এই প্রচারণা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, সরকারকে সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান করতে হবে এবং কোনো একতরফা তথ্য প্রচার না করে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে, ভোটার স্বাধীনতা এবং তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত তদারকি প্রয়োজন বলে তারা দাবি করেন। কিছু বিরোধী দলও উল্লেখ করেছে, গণভোটের ফলাফল যদি একতরফা হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সমতা ও গণতান্ত্রিক নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের অধিকাংশ অর্জিত হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হতে পারে, যা বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের ফলাফল সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তর বা নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলার দিকে ধাবিত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পার্টি গুলোকে নতুন কৌশল নির্ধারণ এবং জনমত গঠন করতে হবে, যাতে দেশের শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকে।
শেষে, শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, সরকার গণভোটের সময়সূচি, ভোটের পদ্ধতি এবং ফলাফল ঘোষণার সকল দিক স্পষ্টভাবে জানাবে, যাতে জনগণ প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে পারে। তিনি সব স্টেকহোল্ডারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং গণভোটকে সফল করার জন্য জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সরকার সকল প্রয়োজনীয় আইনি, প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করে ভোটারদের সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



