ইরানের বিপুল প্রতিবাদ আন্দোলনের মাঝখানে, রেভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা শাখা একটি বিদেশি নাগরিককে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক করেছে। গ্রেফতারটি শনিবারের একটি সরকারি বিবৃতিতে প্রকাশিত হয়, যেখানে ইন্টারনেট ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে একই তথ্য প্রচারিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গোপনে ইরানে প্রবেশ করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মূল্যায়ন করার সময় ধরা পড়ে।
আইআরজিসি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে কাজ করার উদ্দেশ্যে গোপনীয়ভাবে দেশে প্রবেশ করেছিল। তদন্তের সময় গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্লেষণে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি মোসাদের নির্দেশে কাজ করছিলেন। সংস্থা আরও উল্লেখ করেছে, এই প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন শহরে রাজতন্ত্রের সমর্থক দাঙ্গাবাজরা সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। এই দাঙ্গাবাজরা কয়েকটি শহরে রাস্তা অবরোধ, প্রশাসনিক ভবন ও পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছে। প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী কিছু লোকের হাতে আগুনের শিখা জ্বলে, যা মসজিদসহ ধর্মীয় স্থাপনাগুলিকেও প্রভাবিত করেছে।
প্রতিবাদে সশস্ত্র হিংসা বাড়ার ফলে সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর সরাসরি হামলা হয়েছে। তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন সাধারণ মানুষ এবং নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছে, আর অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গৃহহীন ও বয়স্ক মানুষও অন্তর্ভুক্ত, যা পরিস্থিতির তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির তালিকায় সরকারি ভবন, ব্যক্তিগত দোকান এবং মসজিদ অন্তর্ভুক্ত। কিছু শহরে ঐতিহাসিক ভবন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও ধ্বংসের মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পরিষেবা পাঠিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তৎক্ষণাত্ পুনরুদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দ্রুত দেখা যাচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পূর্বে থেকেই কূটনৈতিক উত্তেজনা বিদ্যমান, এবং এই গুপ্তচর গ্রেফতার ঘটনাটি সম্পর্ককে আরও খারাপ করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু দেশ ইতিমধ্যে ইরানের নিরাপত্তা নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা একটি স্পষ্ট সংকেত যে তীব্র অভ্যন্তরীণ অশান্তির সময়ও ত্রিপক্ষীয় গোপন কার্যক্রম চালু রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের ঘটনা পারস্পরিক সন্দেহ বাড়িয়ে দেয় এবং কূটনৈতিক সংলাপকে জটিল করে তুলতে পারে।
এ ধরনের ঘটনা পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ঘটেছে, যেমন সউদি আরবিতে ইরানীয় গোপনচর ধরা পড়া এবং তুরস্কে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মী গ্রেফতার। এই উদাহরণগুলো দেখায় যে অঞ্চলীয় শক্তিগুলোর মধ্যে গোপন তথ্য সংগ্রহের প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের বিষয়।
ইরানের সরকার এখন সম্ভবত ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠাবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন গোপন কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে, ইসরায়েল তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের অভিযোগকে অস্বীকার করতে পারে। দু’দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়গুলো পরবর্তী সপ্তাহে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে পারে।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি এই ঘটনা আরও বাড়ে, তবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াবে। বিশেষ করে গলফ দেশগুলোতে সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি উভয়ই দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর উপর চাপ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই ঘটনা কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড়ের সূচনা হতে পারে, এবং পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



