আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এ ১১ জানুয়ারি গৃহীত অভিযোগ গঠনের শোনানিতে জুলাই ২০২২‑এর গণ‑অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে কারাগার থেকে উপস্থিত করা হয়। একই সময়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এখনও পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
মামলাটি জুলাই মাসে ঘটিত প্রতিবাদে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বন্ধ, সাবমেরিন ক্যাবল কাটা এবং বিটিসিএল ভবনে আগুন লাগার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছে। প্রোসিকিউশন দল এই ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেছে।
শুনানির সময় পলকের পূর্বে গণমাধ্যমে দেওয়া একটি মন্তব্য পুনরায় বাজানো হয়। তিনি তখন বলেছিলেন যে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করেনি, বরং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই বক্তব্যটি প্রোসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সামনে শোনায়, এবং পলক নিজেই তার কথাগুলো শোনার সময় নীরবভাবে বসে ছিলেন।
বক্তব্যের পাশাপাশি, প্রোসিকিউশন দল সলমান এফ. রহমান ও পলকের মধ্যে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বন্ধ সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ডও শুনিয়েছে। এতে দেখা যায় যে উভয় পক্ষই ইন্টারনেট বন্ধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করছিল।
চিফ প্রোসিকিউটর মামলার মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ক্যাবল কাটা বা বিটিসিএল ভবনে আগুন লাগার দায় ছাত্র-জনতার ওপর চাপা একটি ভুল দৃষ্টিভঙ্গি, কারণ ঐ সময়ের সরকারই এইসব কাজের নির্দেশনা দিয়েছিল। তিনি আরও যুক্তি দেন যে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনায়েদ আহমেদ পলকই ইন্টারনেট বন্ধের নীলনকশা তৈরি করেছিল।
প্রোসিকিউশনের উপস্থাপনা শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের শোনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছে। সেই দিন পলক ও অন্যান্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা তাদের প্রতিরক্ষা যুক্তি উপস্থাপন করবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও বিচার করে, এই মামলায় প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের পরবর্তী ধাপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আদালত এখন পর্যন্ত প্রোসিকিউশনের উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে।
এই মামলায় প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের যুক্ত থাকা দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সজীব ওয়াজেদ জয়, যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র, তার অনুপস্থিতি এবং পলকের জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিতি উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রোসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, ইন্টারনেট বন্ধের পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন সরকারী স্তরে সমন্বিত ছিল, যা জনসাধারণের যোগাযোগকে বাধাগ্রস্ত করে প্রতিবাদকে দমন করার উদ্দেশ্য বহন করেছিল। এই যুক্তি যদি আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত হতে পারে।
পলকের প্রতিরক্ষা দল এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি, তবে শোনানির সময় তার নীরব উপস্থিতি থেকে বোঝা যায় যে তিনি প্রোসিকিউশনের উপস্থাপিত প্রমাণের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আদালতের পরবর্তী রায়ে তার বক্তব্য ও রেকর্ডেড কথোপকথনের প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারিত হবে।
মামলার পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-কে প্রমাণের যথার্থতা, সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে এই মামলায় বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দেশের আইনি কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, জুলাই ২০২২‑এর গণ‑অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগে পলকের ট্রাইব্যুনাল শোনানিতে তার নিজের বক্তব্য শোনানো এবং প্রোসিকিউশনের তীব্র যুক্তি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। আসামিপক্ষের প্রতিরক্ষা শোনানির ফলাফল এবং পরবর্তী আদালতের রায় দেশের ভবিষ্যৎ ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করবে।



