লক্ষ্মীপুরে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। কর্মশালা রবিবার, ১১ জানুয়ারি সকালেই সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের সময় সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও নৈতিক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা।
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার মোট সময়কাল দুই দিন, যার মধ্যে তত্ত্ব ও ব্যবহারিক সেশন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। পিআইবির পরিকল্পনা অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতি, তথ্য যাচাই, সংবাদ প্রক্রিয়াকরণ এবং বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার কৌশল শিখবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এ.এইচ.এম. মোশতাকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি কর্মশালার গুরুত্ব তুলে ধরে উদ্বোধন করেন। তার বক্তব্যে স্থানীয় মিডিয়ার ভূমিকা এবং নির্বাচনী সময়ে সঠিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।
প্রশিক্ষণে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার মোট ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী, যার মধ্যে প্রিন্ট, অনলাইন এবং স্থানীয় সম্প্রচার মাধ্যমের কর্মী অন্তর্ভুক্ত।
সেশনের প্রধান বক্তা হিসেবে প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম পাবেল, নোয়াখালীর অভিজ্ঞ সাংবাদিক লিয়াকত আলী খান এবং পিআইবির প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকেই তাদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচনী সাংবাদিকতার মূল দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন।
প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতি, তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংবাদ গঠন ও সম্পাদনা, এবং পাঠকের কাছে বস্তুনিষ্ঠভাবে তথ্য উপস্থাপন। অংশগ্রহণকারীরা কিভাবে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে তা যাচাই করা যায়, তা নিয়ে হাতে-কলমে অনুশীলন করেন।
তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভোটের ফলাফল, প্রার্থীর বক্তব্য এবং নির্বাচনী নীতি সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সূত্রের তুলনা করা শেখানো হয়। এই প্রক্রিয়া ভুল তথ্যের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার জন্য সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত মতামতকে সংবাদ থেকে আলাদা করতে হবে, এ বিষয়ে প্রশিক্ষকরা স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। তারা উল্লেখ করেন, পাঠকের বিশ্বাস অর্জনের জন্য কেবলমাত্র সত্য তথ্যই নয়, তা ন্যায়সঙ্গতভাবে উপস্থাপন করাও জরুরি।
সাংবাদিকতার নৈতিকতা বিষয়েও আলোচনা করা হয়। গোপনীয়তা রক্ষা, সূত্রের সুরক্ষা এবং প্রকাশের আগে নৈতিক দিক বিবেচনা করা—এই সব বিষয়কে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নৈতিক দ্বন্দ্বের উদাহরণ নিয়ে গ্রুপ আলোচনায় অংশ নেন।
প্রশিক্ষণের একটি ব্যবহারিক উদাহরণ হিসেবে, অংশগ্রহণকারীরা আসন্ন নির্বাচনের জন্য একটি কাল্পনিক সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করেন। এতে তারা তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, সংকলন এবং সম্পাদনার পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করেন, যা বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগযোগ্য দক্ষতা গড়ে তুলতে সহায়ক।
কর্মশালার সমাপ্তিতে অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণের ফলাফল নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত, পাঠকদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস রাখা হলো: নির্বাচনের সময় সংবাদ গ্রহণের আগে তথ্যের উৎস যাচাই করুন এবং একাধিক সূত্রের তুলনা করে সত্যতা নিশ্চিত করুন। আপনার মতামত কী? আপনি কি নির্বাচনী সময়ে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব অনুভব করেন?



