মডেল ও ফ্যাশন আইকন ইমান, ডেভিড বাউইয়ের মৃত্যুর দশম বার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করার জন্য নতুন ট্যাটু করিয়েছেন। তিনি ১০ জানুয়ারি শনিবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে ট্যাটুর প্রক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং ক্যাপশনে লিখেছেন, “জন ১০। ব্যথা চলে যায়নি, তবে তার বদলে একটি প্রেমময় চিরস্থায়ী চিহ্ন রেখে গিয়েছে” এবং #BowieForever হ্যাশট্যাগ যুক্ত করেছেন।
ভিডিওতে ইমানের বাহুর ওপর নতুন কালি রঙে গঠিত নকশা ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, আর পটভূমিতে বাউইয়ের ১৯৭৭ সালের অ্যালবাম *Low* থেকে “Subterraneans” গানের সুর বাজছে। ট্যাটুর সুনির্দিষ্ট চিত্রের ব্যাখ্যা তিনি দেননি, তবে পোস্টের টেক্সট থেকে বোঝা যায় এটি স্মরণ ও অটল ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
ডেভিড বাউই ১০ জানুয়ারি ২০১৬-এ ৬৯ বছর বয়সে ক্যান্সারের সঙ্গে ১৮ মাসের গোপন লড়াইয়ের পর শান্তভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “তিনি আজ পরিবারকে ঘিরে শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন, এবং আমরা অনুরোধ করছি যে ভক্তরা পরিবারকে শোকের সময় গোপনীয়তা বজায় রাখুন।”
ইমান ও বাউইয়ের প্রথম সাক্ষাৎ ১৯৯০ সালে একটি অন্ধ ডেটের মাধ্যমে হয়, এবং দুই বছর পর ১৯৯২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দম্পতি ২০০০ সালের আগস্টে কন্যা আলেকজান্দ্রিয়া জাহরা জোন্সকে স্বাগত জানায়, যাকে তারা দুজনেই গভীর ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করেন। বাউইয়ের মৃত্যুর পর থেকে ইমান তার সঙ্গে কাটানো সময়কে স্মরণে নানা প্রকাশে প্রকাশ করেছেন।
২০২১ সালে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন, “আমি এখনও বিবাহিত বোধ করি। কেউ আমাকে বলেছিল ডেভিড আমার মৃত স্বামী, আমি বলি না, তিনি আমার স্বামীই। আমার স্মৃতিতে, আমার ভালোবাসা বেঁচে আছে।” এই কথাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনি বাউইয়ের সঙ্গে তার বন্ধনকে কখনো ভাঙেননি, বরং তা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করেন।
এই সপ্তাহের শুরুতে ইমান বাউইয়ের ৭৯তম জন্মদিনের স্মরণে আরেকটি পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি শিল্পীর সাদা-কালো ছবি দিয়ে ক্যাপশন লিখেছেন, “হ্যাপি হেভেনলি বার্থডে। আপনার আলো আমাদের হৃদয়ে এত উজ্জ্বলভাবে জ্বলে! আমরা আপনাকে ভালোবাসি এবং মিস করি।” এই পোস্টে তিনি আবারও বাউইয়ের সঙ্গীত ও শিল্পীসত্তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার অনন্য উপস্থিতি আমাদের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে তা তুলে ধরেছেন।
ইমানের এই ট্যাটু ও সামাজিক মাধ্যমের প্রকাশনা বাউইয়ের সঙ্গীত ও ব্যক্তিত্বের প্রতি তার অবিচল সম্মানকে পুনরায় জোর দেয়। দশ বছর পরও তার স্মৃতি ও শিল্পকর্মের প্রভাব নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে ছোঁয়া রাখে, এবং ইমানের এই প্রকাশনা সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।



