প্রাক্তন ব্রিটিশ প্যারাট্রুপার কার্ল বুশবি, ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে চিলি থেকে পা বাড়িয়ে ৩৬,০০০ মাইল (প্রায় ৫৮,০০০ কিলোমিটার) দীর্ঘ পথচলা শুরু করেন। তিনি কোনো যান্ত্রিক পরিবহন ব্যবহার না করে হাল, ইংল্যান্ডের নিজের বাড়ি পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করেন। এখন, হাঙ্গেরির গ্যোর শহরে পৌঁছে, অস্ট্রিয়া সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান থেকে, অক্টোবর মাসে তার মা অ্যানজেলার সঙ্গে পুনর্মিলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বুশবি বর্তমানে মেক্সিকোতে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি ভিসা শর্ত পূরণের জন্য প্রতি কয়েক মাসে ফিরে আসেন। তিনি মার্চ মাসে হাঙ্গেরি‑অস্ট্রিয়া সীমান্তের নিকটবর্তী পথে আবার পা বাড়াবেন বলে জানিয়েছেন এবং এই শেষ পর্যায়ে “মিশনটি শেষের দিকে, তবে মনের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি” প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এটি কঠিন সমাপ্তি, জীবনের শেষের মতো। পরবর্তী কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, দীর্ঘ সময়ের একাকী যাত্রা শেষে তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন।
বুশবির ভ্রমণকালে ভিসা সীমাবদ্ধতা একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে; তিনি কোনো দেশের মধ্যে ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিনই থাকতে পারেন। এই শর্তের ফলে তিনি এক দেশে দীর্ঘ সময় থাকতে পারছেন না এবং বারবার ভিসা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যদি আমার ইচ্ছা হতো, আমি চলতে থাকতাম, তবে নিয়মের কারণে আমাকে ভিসা বদলাতে হচ্ছে।” এই সীমাবদ্ধতা তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করেছে, যদিও তিনি এখনও শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোর দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণ আমেরিকায় তার প্রথম পর্যায়ে, ডারিয়েন গ্যাপের জঙ্গলে গ্যাং থেকে বাঁচতে হয়েছিল, যা প্যানামা ও কলম্বিয়ার মধ্যে অবস্থিত। এরপর তিনি মেক্সিকো পার হয়ে উত্তর দিকে সাইবেরিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তবে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের ফলে সাইবেরিয়া অতিক্রমের পরিকল্পনা বিলম্বিত হয়। দুই বছর আগে, তিনি বেয়ারিং স্ট্রেট পার হয়ে রাশিয়া ও আলাস্কা সংযোগ স্থাপন করলেও, আর্থিক সমস্যার কারণে তার অগ্রগতি থেমে যায়।
আর্থিক সংকটের সময় তিনি একটি স্পনসর হারিয়ে ফেলেন এবং সম্ভাব্য অন্য একটি স্পনসরও হারাতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিতে মেক্সিকো তার জন্য একটি সাময়িক ঘর হয়ে ওঠে; তিনি দু’বছর ধরে সেখানে বসবাস করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “মেক্সিকোতে জীবনযাত্রার খরচ কম, মানুষ বন্ধুত্বপূর্ণ, আর আমার প্রয়োজন কেবল টি-শার্ট, শর্টস ও স্যান্ডেল।” এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্পনসর কাছাকাছি থাকায় তিনি আর্থিক সহায়তা পেতে সক্ষম হন।
বর্তমানে বুশবি বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং হাঙ্গেরি ফিরে যাওয়ার জন্য শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানান, “শীঘ্রই অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করব, তারপর জার্মানি, বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং অবশেষে বাড়ি।” এই ধারাবাহিক পরিকল্পনা তার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে পুনরায় দৃঢ় করে।
বুশবির এই একক পদযাত্রা বিশ্বব্যাপী দীর্ঘতম পায়ে হেঁটে ভ্রমণ হিসেবে স্বীকৃত এবং বহু দেশের ভিসা নীতি, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তার গল্পটি স্বপ্ন অনুসরণে দৃঢ়সংকল্পের উদাহরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতির পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। পাঠকরা তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারেন যে, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্য, নমনীয়তা এবং স্থানীয় সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।



