রবিবার ভোরে সিলেটের জাফলং উপজেলার জুমপাড় এলাকায় পিয়াইন নদীর তীরে এক শ্রমিকের গাঢ় আঘাতে মৃত্যু ঘটেছে। ২৭ বছর বয়সী পারভেজ আহমেদ, চৈলাখেল অষ্টম খণ্ডের বাসিন্দা, অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজের সময় পে‑লোডারের চাকায় ধরা পড়ে প্রাণ হারান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা দেহটি সিলেট এম.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানা থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, বালু উত্তোলনের কাজটি গোয়াইনঘাটের ৩ নম্বর পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ফারুক আহমদের মালিকানাধীন পে‑লোডার ব্যবহার করে করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের মতে, এই যন্ত্রটি নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে অনুমতি ছাড়া বালু তোলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে ছিল।
দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে পারভেজ কাজের স্থানে উপস্থিত ছিলেন এবং যন্ত্রটির চাকায় ধরা পড়ে তিনি তৎক্ষণাৎ মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিলেন। আহতের কোনো সুযোগ না থাকায়现场ে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
গোয়াইনঘাট থানার ওসিআই মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর পর, মৃতদেহের উপর প্রাথমিক ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল অনুযায়ী পারভেজের মৃত্যু সরাসরি পে‑লোডারের চাকায় চাপা পড়ার ফলে ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা।
পারভেজ আহমেদ জাফলং ইউনিয়নের ছৈলাখেল অষ্টম খণ্ডের জামাল মিয়ার পুত্র। তার পরিবার স্থানীয় গ্রাম ও শহরের মধ্যে সমর্থন পেতে চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যে থানায় অভিযোগ দায়েরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পরিবারকে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগ দাখিলের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
থানা কর্তৃপক্ষের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে একটি FIR (প্রথম তথ্য প্রতিবেদন) দাখিল করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ, যন্ত্রের মালিকানা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। যদি প্রমাণে দেখা যায় যে বালু উত্তোলন অনুমোদনবিহীনভাবে করা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং শ্রম সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে।
সিলেট অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা বাড়ছে, যা নদীর পরিবেশ ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এই দুর্ঘটনা দেখায় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের ফলে প্রাণহানি ঘটতে পারে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। পারভেজের পরিবার এবং স্থানীয় সমাজের আশা, এই ঘটনার পর আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা দেখা যাবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গৃহীত হবে।



