20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমাদুরোর অপহরণ প্রচেষ্টায় মার্কিন বাহিনীর গোপন অস্ত্র ব্যবহার

মাদুরোর অপহরণ প্রচেষ্টায় মার্কিন বাহিনীর গোপন অস্ত্র ব্যবহার

সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নিরাপত্তা দলকে লক্ষ্য করে একটি অপহরণ প্রচেষ্টা চালানো হয়, যার সময় মার্কিন সামরিক ইউনিট প্রয়োগ করা গোপন অস্ত্রের ফলে নিরাপত্তা কর্মীদের নাক থেকে রক্তপাত এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্তবমি দেখা যায়।

মাদুরোর সেফ হাউসের আশেপাশে অল্প সময়ের মধ্যে দু’টি ড্রোন উড়ে যাওয়া লক্ষ্য করা যায়, এরপর অল্প সময়ের মধ্যে তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু হয়। নিরাপত্তা দল জানায়, গুলির সঠিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং প্রতি মিনিটে প্রায় তিনশো রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়, যার ফলে বেশ কয়েকজন সৈন্য একের পর এক মাটিতে পতিত হয়।

অভিযানের সময় নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে একের নাক থেকে রক্তপাত শুরু হয় এবং কিছুজন রক্তবমি করে। গুলিবর্ষণের তীব্রতা এবং অজানা অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি। নিরাপত্তা দল জানায়, গুলিবর্ষণ মাত্র আধা ঘন্টারও কম সময়ে শেষ হয়ে যায়, তবে সেই সময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় বিশজন সৈন্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়নি।

মাদুরোর নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা এক সৈন্যের মতে, অপহরণ প্রচেষ্টা শুরু হওয়ার আগে কোনো অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করা যায়নি; সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। তবে ড্রোনের উপস্থিতি এবং তৎপর গুলিবর্ষণ তাদের প্রস্তুতিকে অচল করে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, গুলির সঠিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পদ্ধতি এবং ব্যবহৃত গোপন অস্ত্রের প্রকৃতি তাদের জন্য অপ্রতিরোধ্য ছিল।

মার্কিন বাহিনীর এই ছোট সংখ্যক সৈন্যের দল, যদিও মাত্র বিশজন, তবু মাদুরোর বিশাল নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। নিরাপত্তা কর্মীরা গুলিবর্ষণের সময় কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি এবং দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। গুলিবর্ষণের পর, এক তীব্র শব্দ শোনা যায়, যা নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং রক্তপাতের সঙ্গে সঙ্গে রক্তবমি শুরু হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, মাদুরোর নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সৈন্যরা জানান, গোপন অস্ত্রের ব্যবহার এবং গুলিবর্ষণের তীব্রতা তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল, ফলে তারা কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অস্ত্রের সঙ্গে মোকাবিলা করা তাদের সক্ষমতার বাইরে, যা অপহরণ প্রচেষ্টার সফলতা নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন বাহিনীর এই হস্তক্ষেপের পটভূমিতে, ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একাধিক স্থানে আক্রমণ চালায়। সেই আক্রমণের সময়ও ভূমি অভিযান পরিচালনা করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নিরাপত্তা দলকে লক্ষ্য করা হয়। এই ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য মাদুরোর নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করা এবং তার রাজনৈতিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের গোপন অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করতে পারে। মাদুরোর সরকার এই ঘটনার পর দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়ে আহ্বান জানাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে।

অভিযানের সময় নিরাপত্তা দল যে ক্ষতি ভোগ করেছে, তা মাদুরোর সরকারকে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পদ্ধতি এবং গোপন অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments