20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদকে জোরপূর্বক অপহরণ, ৯ ঘণ্টা আটক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদকে জোরপূর্বক অপহরণ, ৯ ঘণ্টা আটক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী শিক্ষক হাসান মোহাম্মদকে ২২ ঘণ্টা আগে চাকসু নেতারা জোর করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে গিয়ে মোট নয় ঘণ্টা ধরে আটক করে রেখেছেন। হেনস্থা ঘটার পর শিক্ষকের ফোনে তল্লাশি চালিয়ে, প্রাক্তন সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগে তাকে লক্ষ্য করা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রথমে প্রক্টরের অফিসে সাত ঘণ্টা, এরপর সহ-উপাচার্যের অফিসে দুই ঘণ্টা ধরে রাখা হয়। এই সময়ে তার মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হয়। রাত নয়টায় প্রক্টরের গাড়িতে করে তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে বের করা হয় এবং অবশেষে মুক্তি দেওয়া হয়।

হাসান মোহাম্মদ পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর হিসেবে কাজ করেছেন এবং জুলাই ২০২২-এ ছাত্র আন্দোলনের বিরোধী অবস্থানের জন্য অভিযোগের মুখে ছিলেন। চাকসু নেতারা দাবি করেন, তিনি সেই সময়ে ছাত্রদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ভূমিকা পালন করেছেন এবং গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধী মন্তব্যের জন্য তদন্ত চলছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বেতন-ভাতা স্থগিত রেখেছে, যদিও শিক্ষক নিজে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আর রাজী সামাজিক মাধ্যমে লিখে বলেছেন, “সম্মতি ছাড়া কাউকে জোর করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া অপহরণ। অপরাধী হলেও কোনো শিক্ষক বা কোনো মানুষকে জোরপূর্বক কোথাও নিয়ে যাওয়ার অধিকার কারও নেই।” তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের আইনি ব্যবস্থা চেয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামও একই বিষয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে হেনস্তা ও অপহরণের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। ফোরাম উল্লেখ করেছে, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কাজের জন্য দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অপহরণ অপরাধবিধির ধারা ৩২১ এবং ৩২২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার অধিকার নেই অন্যকে জোরপূর্বক স্থানান্তর করার, এবং এ ধরনের কাজের জন্য অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে আইন স্পষ্ট করে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি, তবে শিক্ষকের বেতন-ভাতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, চাকসু নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষককে মুক্তি পাওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার চাকরির অবস্থান ও বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে। ঘটনাটির ন্যায়সঙ্গত সমাধানের জন্য আদালতে মামলার দায়েরের দাবি উত্থাপিত হয়েছে।

এই ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হেনস্থা ও অপহরণ প্রতিরোধে তৎপরতা দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সমাজের প্রত্যাশা।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments