22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধদক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় গলাকাটা মরদেহে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিহত,...

দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় গলাকাটা মরদেহে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিহত, সন্দেহভাজন শনাক্ত

দক্ষিণ বনশ্রীর এল‑ব্লকের প্রীতম ভিলা থেকে সন্ধ্যা সময়ে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৭ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার, রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তার গলায় কাটা চিহ্নসহ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সন্ধ্যা প্রায় ৪ টার দিকে তার বোন জিম থেকে ফিরে এসে বাড়ির ভেতরে কোনো মানুষ না থাকায় গলাকাটা দেহটি দেখেন।

ফাতেমা তার বাবা সজীব মিয়া পরিচালিত রেস্তোরাঁর কাছাকাছি বাসা ভাড়া করে থাকতেন। তার মা‑বাবা ও বড় ভাই দুই দিন আগে হাবিগঞ্জের লাখাই গ্রামীয় বাড়িতে গিয়ে ফিরে আসেননি; তারা গ্রামেই অবস্থান করছেন। ফাতেমা ও তার বোন ঢাকায় একা বাসা শেয়ার করছিলেন। বোনের জিমের সময় ফাতেমা বাড়িতে একা ছিলেন, ফলে দেহটি পাওয়া যাওয়ার সময় বাড়িতে অন্য কেউ উপস্থিত ছিল না।

পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, অপরাধীরা ফাঁকা বাসায় লুটপাটের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে, ফাতেমা বাধা দিলে হিংসাত্মকভাবে গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে কোনো চুরি করা সামগ্রী পাওয়া যায়নি, তবে দেহটি গলায় কাটা চিহ্নসহ পাওয়া যায়।

খিলগাঁও থানা-ইন-চিফ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পর দেহটি উদ্ধার করেন এবং তা ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠান। একই সময়ে, অতিরিক্ত উপকমিশনার কায়েস ইকবাল জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার পর পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তারী অভিযান চালায়, তবে এখনো পর্যন্ত তাকে ধরতে সক্ষম হয়নি। তদন্তের ধারাবাহিকতায়, অপরাধীকে ধরা না পড়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

হত্যার অপরাধে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শনিবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ না করেও, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

ফাতেমার পরিবারে এই ঘটনার শক গভীর। তার বাবা সজীব মিয়া, যিনি বনশ্রীর একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন, এবং তার মা‑বাবা ও ভাই বর্তমানে হাবিগঞ্জে আছেন। পরিবার এখনো শোকের মধ্যে, এবং পুলিশ তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য পরিবারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বাড়িগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। এছাড়া, যুবক-যুবতী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার ও স্কুলে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অপরাধের প্রেক্ষাপটে, খিলগাঁও থানা-ইন-চিফের মতে, লুটপাটের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করা অপরাধীরা গৃহস্থালির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি কাজে লাগিয়ে এই হিংসাত্মক কাজটি সম্পন্ন করেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে বাড়িগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের পরবর্তী শুনানির তথ্য পাবার সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণকে জানানো হবে। বর্তমানে, ফাতেমা আক্তারের গলাকাটা মরদেহের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলমান, যা ঘটনার সঠিক সময় ও পদ্ধতি নির্ধারণে সহায়তা করবে।

সামগ্রিকভাবে, এই দুঃখজনক ঘটনা স্থানীয় সমাজে নিরাপত্তা ও অপরাধ প্রতিরোধের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে, যাতে অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments