হাতহাজারী উপজেলা, চট্টগ্রাম – আজ প্রাতঃকালীন প্রায় চারটায় মাইক্রোবাস চালক মহবুব আলম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনাটি হাটহাজারীর কলাবাগান এলাকায় আলাওল হল নামে একটি ভবনের উঠোনে ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, একদল অপরিচিত ব্যক্তি তার ওপর আক্রমণ করে ছুরিকায় আঘাত হানেন এবং তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যান।
মহবুব আলম হাটহাজারী পৌরসভার ওয়ার্ড নং ৩, আজিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় পরিবহন সেবায় নিয়মিত কাজ করতেন এবং তার পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
আক্রমণটি প্রায় ৪:০০ টার দিকে ঘটেছে, যখন মহবুব তার মাইক্রোবাসটি পার্কিং এলাকায় রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরই আশেপাশের বাসিন্দারা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (সিএমসিএইচ) জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে রাস্তায়ই তার প্রাণ ত্যাগ করে।
হাতহাজারী মডেল থানা অফিসার ইন চার্জ জাহিদুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধের পর অপরাধীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং কোনো পরিচয় প্রকাশ করেননি। স্থানীয় মানুষদের তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, শিকারের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়নি।
মৃতদেহ প্রথমে শিকারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে থানা পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মৃতদেহের ওপর প্রাথমিক তদন্ত করে এবং একটি ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট প্রস্তুত করে। রিপোর্টের ভিত্তিতে দেহটি সিএমসিএইচ মরগে পাঠিয়ে অটোপ্সি করা হয়।
মাইক্রোবাস চালকদের সমিতির নেতা ও সক্রিয় সদস্যরা শিকারের মৃত্যুর পর তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদে বের হন। তারা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের কলাতোল এলাকায় গিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে প্রায় বিশ মিনিটের জন্য ট্রাফিককে বাধাগ্রস্ত করেন। প্রতিবাদকারীরা দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রতিবাদকারীরা সড়ক থেকে সরে যান এবং ট্রাফিক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। সড়ক বন্ধের সময় গাড়ি চালকদের মধ্যে অস্থায়ী বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গুলিবিদ্ধের পেছনে জুয়া সংক্রান্ত বিবাদই মূল কারণ হতে পারে। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, শিকারের সঙ্গে অপরাধীদের মধ্যে কোনো জুয়া খেলা নিয়ে মতবিরোধ হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নেয়।
থানা অফিসার ইন চার্জ জানান, এখনো সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া চলমান। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত ধরা এবং আইনের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক, এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।



