18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআসাদুদ্দিন ওয়েইসির হিজাব পরা নারীকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ভবিষ্যৎ মন্তব্যে বিজেপি তীব্র প্রতিক্রিয়া

আসাদুদ্দিন ওয়েইসির হিজাব পরা নারীকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ভবিষ্যৎ মন্তব্যে বিজেপি তীব্র প্রতিক্রিয়া

মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে ১৫ জানুয়ারি নির্ধারিত পৌরসভার নির্বাচনের আগে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়েইসি, সংখ্যালঘু ভোটারদের লক্ষ্য করে এক উজ্জ্বল বক্তব্য রাখেন। তিনি হিজাব পরা নারীর একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে দাবি করেন এবং তা ভারতীয় সংবিধানের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে তিনি বিজেপির হিজাব‑বিরোধী নীতি ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষের সমালোচনা করেন।

সোলাপুরের সংখ্যালঘু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় নির্বাচনী সফরে ওয়েইসি, আসন্ন পৌরসভার নির্বাচনকে সুযোগ করে নেওয়া এক রাজনৈতিক বার্তা দেন। তিনি বলেন, ভোটের দিন নাগরিকের অধিকারই মূল, হিজাব পরা হোক বা না হোক, প্রত্যেকেরই প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মেয়র হওয়ার সমান সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী ধর্ম বা পোশাকের ভিত্তিতে কোনো বাধা নেই, এ কথাটি তিনি পুনরায় জোর দেন।

ওয়েইসি আরও উল্লেখ করেন, আজকের রাজনৈতিক পরিবেশে হিজাব‑পরিহিত নারীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার স্বপ্ন এখনো দূরে, তবে ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়িত হতে পারে। তিনি নিজে বা তার সমর্থকরা সেই সময়ে উপস্থিত না-ও থাকতে পারেন, তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে হিজাব পরা কোনো নারী একদিন দেশের শীর্ষস্থানীয় পদে অধিষ্ঠিত হবেন। এই আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তিনি “ইনশাল্লাহ” শব্দে সমাপ্ত করেন।

বিপিএনের প্রতি তার সমালোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, দলটি হিজাব‑বিরোধী মনোভাব গড়ে তুলেছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের বিদ্বেষের অবসান ঘটবে এবং যারা ঘৃণা ছড়ায় তারা শেষ হয়ে যাবে। সমগ্র সমাজে যখন ভালোবাসা ও সহনশীলতা ছড়িয়ে পড়বে, তখনই বিরোধী শক্তিগুলোর প্রকৃত স্বভাব প্রকাশ পাবে, এটাই তার প্রত্যাশা।

বিপিএলের পার্টি নেতা ও সংসদ সদস্য অনিল বোন্দে, ওয়েইসির মন্তব্যকে “দায়িত্বহীন” এবং “অর্ধসত্য” বলে সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হিজাব‑প্রথার বিরোধিতা করা মুসলিম নারীরাও রয়েছে এবং ইরানের নারীরা এই প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। বোন্দে যুক্তি দেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরাধীনতা চায় না, তাই হিজাব‑বিরোধী নীতি কোনো ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ওয়েইসির এই বক্তব্য সংখ্যালঘু ভোটারদের একত্রিত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি দীর্ঘমেয়াদে মুসলিম ভোটারদের সমর্থন অর্জনের জন্য এমন একটি ভবিষ্যৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন, যা তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, এই ধরনের উক্তি বিজেপির ধর্মীয় ভিত্তিক ভোটার ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

আসন্ন পৌরসভার নির্বাচনে এই বিতর্কের প্রভাব কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে সোলাপুরের মতো সংখ্যালঘু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় হিজাব‑সংক্রান্ত বিষয়গুলো ভোটের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। উভয় দলই এখনো তাদের মূল ভোটার গোষ্ঠীর প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে বিভিন্ন রকমের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিপিএল ও এআইএমআইএমের মধ্যে এই তীব্র মতবিরোধের ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। উভয় পক্ষই নিজেদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে তুলে ধরছে, যা ভোটারদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে হিজাব‑পরিহিত নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নটি দেশের সামগ্রিক ধর্মীয় সহনশীলতা ও সংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, আসাদুদ্দিন ওয়েইসির হিজাব পরা নারীকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে উক্তি এবং তার BJP‑বিরোধী মন্তব্যের ফলে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই ঘটনা ভারতের ধর্মীয় ও লিঙ্গ সংক্রান্ত রাজনৈতিক আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments