বিএনপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ২০০৮ সালের কর ফাঁকির মামলায় রায়ে খালাস পেয়েছেন। রায়টি ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতে রবিবার ঘোষিত হয় এবং দুলু নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক রবিউল আলম মামলাটি শেষ করে দুলুকে অপরাধমুক্তি প্রদান করেন। আদালতে দুলুর উপস্থিতি এবং তার আইনজীবীর মন্তব্যের পরে, আদালত তার অপরাধমূলক অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।
দুলুর আইনজীবী বোরহান উদ্দিন মামলাটিকে হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে এনবিআরের চারজন সাক্ষীর বর্ণনা ভিত্তিক রায়ে দুলুকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুলুর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি।
মামলাটি ৩ আগস্ট ২০০৮ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী কর কমিশনার হাফিজ আল আসাদের দ্বারা দায়ের করা হয়। হাফিজ আল আসাদ দুলুর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং আয়কর বিভাগকে ভুল তথ্য প্রদান করার অভিযোগ তুলেছিলেন।
অভিযোগ অনুসারে, ১৯৮৩ সাল থেকে দুলু ২ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০১ টাকার আয় থেকে মাত্র ১০ লাখ টাকার আয়কর প্রদান করেছেন বলে দাবি করা হয়। এছাড়া, তিনি আয় ও ব্যয়ের প্রকৃত তথ্য আয়কর বিভাগে প্রদান না করার জন্যও অভিযুক্ত হন।
দুলু এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করেন, তবে উচ্চ আদালতের রায় তার বিপক্ষে যায়। সেই রায়ের পরেও দুলুর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং মামলাটি পুনরায় আদালতে চলমান হয়।
মামলাটির বিচার ৯ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে শুরু হয়। আদালতে সাক্ষীদের বর্ণনা, আত্মপক্ষের যুক্তি এবং প্রমাণাদি পর্যালোচনা করার পর দুলুকে অপরাধমুক্তি প্রদান করা হয়। দুলু এই রায়ে সন্তোষজনকভাবে খালাস পান।
দুলু বর্তমানে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসন থেকে বিএনপি’র ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খালাস পাওয়ার পর তার রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন পুনরায় ত্বরান্বিত হয়েছে এবং তিনি ভোটারদের সমর্থন জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে দুলুর খালাস তার নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যেখানে কর ফাঁকির অভিযোগ তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে চেয়েছিল। তবে বিরোধী দলও দুলুর অতীতের আর্থিক বিষয়গুলোকে পুনরায় তুলে ধরতে পারে।
এই রায়ের পর দুলু আইনগতভাবে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। দুলুর খালাসের ফলে বিএনপি’র নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যাবে, বিশেষ করে নাটোর-২ অঞ্চলে তার জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করার জন্য।
দুলুর আইনজীবী বোরহান উদ্দিনের মতে, এই রায় দুলুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এবং ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি জোরদার করবে।
অবশেষে, দুলুর খালাসের ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে কিনা তা সময়ই বলবে, তবে বর্তমান রায় তাকে আদালত ও জনমতের সামনে পুনরায় স্বীকৃতি প্রদান করেছে।



