19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরানে বিক্ষোভের ফলে বহু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল

ইরানে বিক্ষোভের ফলে বহু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল

ইরানে সরকারবিরোধী প্রতিবাদে তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো টেহরান, শিরাজ, বান্দার আব্বাস ও মাশহাদ গন্তব্যে নির্ধারিত বেশ কিছু ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এই পদক্ষেপগুলো মূলত নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।

লুফথানসা, ফ্লাইদুবাই, তুর্কি এয়ারলাইনস, এ-জেট, পেগাসাস, কাতার এয়ারওয়েজ, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসসহ বেশ কয়েকটি বড় এয়ারলাইনস ইরানের আকাশে চলাচল বন্ধ করেছে। এ সংস্থাগুলো একে একে তাদের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে, যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেবা চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, টেহরান, শিরাজ, বান্দার আব্বাস এবং মাশহাদ গন্তব্যে অন্তত সতেরোটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সময়সূচি সমন্বয় করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ক্যারিয়ার এমিরেটসও টেহরানের দিকে যাত্রা করা এক ফ্লাইট বাতিল করেছে। তুর্কি এয়ারলাইনসের মতে, সাম্প্রতিক অশান্তি কারণে টেহরান, তাবরিজ ও মাশহাদ গন্তব্যে সতেরোটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এ-জেটও টেহরানের দিকে ছয়টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

লুফথানসা, পেগাসাস, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস এবং অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের মতো ইউরোপীয় ক্যারিয়ারগুলোও ইরানের প্রধান শহরে নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো রদ করেছে। এ সংস্থাগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিমানবন্দরগুলোর কার্যকরী অবস্থার অনিশ্চয়তাকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজ এবং ওমান এয়ারও ইরানের দিকে যাত্রা করা কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই বাতিলকরণগুলো মূলত টেহরান ও অন্যান্য প্রধান শহরে চলমান প্রতিবাদে প্রভাবিত হয়েছে।

বিক্ষোভের সূচনা ২৮ ডিসেম্বর রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে গ্র্যান্ড বাজারে শুরু হয় এবং দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত পঁয়ষট্টি জনের মৃত্যু ঘটেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের টাইম সাময়িকীর প্রতিবেদনে তেহরানের একক এলাকায় মৃত্যুর সংখ্যা দুইশতাধিকের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

একজন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করছে এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন নেটওয়ার্কে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। বিমান সংস্থাগুলোর সতর্কতা স্বাভাবিক, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি সমাধান না হলে বাণিজ্যিক ও পর্যটন খাতে বড় ক্ষতি হতে পারে।” এই মন্তব্যটি বর্তমান পরিস্থিতির কূটনৈতিক মাত্রা তুলে ধরেছে।

বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বাতিলের ফলে ইরানের অর্থনীতিতে তীব্র চাপ বাড়বে, বিশেষ করে তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক লেনদেনে প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি, ইরানীয় নাগরিকদের জন্য বিদেশে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক সফর কঠিন হয়ে পড়বে, যা দেশের আর্থিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তবে আরও এয়ারলাইনস তাদের সেবা স্থগিত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোও নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা দ্রুত জানানো হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments